ড্যানিজেলা ট্র‍্যাজকোভিচ

ড্যানিজেলা ট্র‍্যাজকোভিচ | জন্ম ১৯৮০ সালে

সার্ভিয়া দেশের এইজন উল্লেখযোগ্য কবি, গল্পকার এবং অনুবাদক। রিভিউও লেখেন পাশাপাশি। পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে।বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন। ওয়াল্ড পোয়েট্রি এলামিক (২০১৭-২০১৮) এবং এটুনিস গ্যালাক্সি  এনথ্রোলজি (২০১৯)-তে ড্যানিজেলার লেখা স্থান পেয়েছে। ওর প্রথম বইয়ের নাম “22 Wagans”। ড্যানিজেলার লেখা অনুবাদ হয়েছে রাশিয়ান,স্প্যানিশ, রোমানিয়ান, আরবি, ইংরেজি, বুলগেরিয়ান, ক্রেজ, স্লোভাকীয় প্রভৃতি ভাষায়।

ভাষান্তুর | সৌম্যজিৎ আচার্য

তোমার ঘর

এসো
তোমার নিজের ঘরে

তুমি ছাড়া
কেউ জানেনা
কোথায় এর দরজা
কেমন দেখতে এর দেয়াল
এর জানলা
ছাদ
আদৌ ছাদ আছে কিনা
এবং কোন মালমশলা দিয়ে তৈরী এ বাড়ি

এসো
যখন তোমার মনে হবে
ঘরে ফেরা দরকার
যখন তুমি ক্লান্ত হবে ঘুরতে ঘুরতে…

কোলাহলই
তুমি চেয়েছ বারবার
আগুনের হাসি
বইছে তোমার শরীরে
ঠোঁটে যখন ধোঁয়া ওঠা আয়না
আঙুলে আঙুলে নিঃশব্দ কথা বলা
রাতের নীল আকাশের
চাঁদ যখন তোমার কোলে

এসো
যখন তোমার মনে পড়বে
তুমি ছাড়া
তোমার বাড়িটা ফাঁকা পড়ে আছে

এসো
নাহয় ফিরে যেও আবার
তোমাকে যখন হতেই হবে ভবঘুরে মানুষ

কোলাহলে

তবু তোমার ঘর তোমারই
কোলাহলও ভবঘুরেদের চায় না

কোলাহল
রান্নাঘরের চিমনির সেই ধোঁয়া
তুমি নিয়ে এসো আবার

মেক্সিকোর স্বপ্ন

স্বপ্নে আমি এক মেক্সিকোর কাঁটাগাছকে
গরম বালির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি
এ গাছের ফুল ততক্ষণও বাঁচবে না
যত দীর্ঘ সময় ধরে
ওই গানটা গাওয়া হচ্ছে
“এসো আজ রাতে বৃষ্টির মতো”

যদিও আমি দু-পা
সমুদ্রে ডুবিয়ে বসে আছি
বসে আছি ইউরোপে
তবু স্বপ্নটা…

প্রতিদিন সূর্য এবং  চাঁদ চক্রাকারে ঘুরছে
আর বারবার মনে করাচ্ছে
আমাকেও একটা কালো পাখি হতে হবে

ছেলেটা আর মেয়েটা

মেয়েটার এখনো কম বয়েস
কিন্তু তাও
সে হয়তো ছায়া ভালোবাসে
এবং তার শান্ত স্বভাবকে

শরতের অরণ্যের পাদদেশে
সমুদ্রতটে নীলাভ বালির গামলা
তাকে এখনো আশা জাগায়

ছেলেটার এখনো কম বয়েস
কিন্তু তবু
পূর্বপুরুষ তাকে পরম বিশ্বাসে
যা কিছু দিয়েছিল
বৃষ্টি তার শেষ চিহ্নটুকুও নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে

তবু জলের নীচে ভেসে যাওয়া
লেখা পৃষ্ঠাগুলো
তাকে আশা জোগাচ্ছে আজও

মনে হয়,মেয়েটা তার ছিন্নভিন্ন কোর্টের আড়ালে
এক সোনালী গ্রীষ্মকাল  রেখেছে লুকিয়ে

মনে হয়,ছেলেটার আধখোলা জামার ভেতর থেকে একটা সূর্য উঁকি মারছে

আমি মেয়েটার নিশ্বাসে প্রশ্বাসে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছি

আর বাজি রাখছি
এ অবিনশ্বরতায়
ছেলেটার মতো আমিও যাব ভিজে

জানি,শুধু আমার রশ্মিতেই
মেয়েটার জীবনের খাঁজে খাঁজে
ভরে যাবে  আলো

আমার এ নাম লেখার সময়
শুনতে পাচ্ছি
ছেলেটার হাড়ের  দুঃখ
তার রক্তের চুমুদাগ

এখন যদি উঠে দাঁড়িয়ে
মেয়েটা বলে,
আমাদের ফেরার টিকিট ছিড়ে ফেলো…

এখন যদি উঠে দাঁড়িয়ে
ছেলেটা বলে,
নতুন শিশু জন্মানোর আগে
এ পৃথিবীকে ধুয়ে পরিষ্কার করো…

যদি মেয়েটা
এখন…

যদি ছেলেটা
এখন…