হানিফ আবদুররাকিব

হানিফ আবদুররাকিব  |  জন্ম ১৯৮৩ সাল

হানিফ আবদুররাকিব যখন লেখেন, তাঁর কবিতা আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর শোকগাথা হয়ে ওঠে। সমালোচকদের চোখে যেসব তরুণ কবি কবিতাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারেন, হানিফ তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

হানিফের জন্ম ১৯৮৩ সালে। আমেরিকায়, ওহিওর কলম্বাস শহরে। ‘দ্য ক্রাউন এইন্ট ওয়র্থ মাচ’ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। হানিফের প্রবন্ধ সংকলন ‘দে কান্ট কিল আস আনটিল দে কিল আস’ ২০১৭ সালে আমেরিকার পঁচিশটি অবশ্যপাঠ্য বইয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে

ভাষান্তর | শ্যামশ্রী রায় কর্মকার

 

এই  মৃত্যুমুখী সভ্যতাকে নিকোলা টেসলা জানতেন না

আমরা ঈশ্বরকে চাই

কিন্তু গ্রেনেডের গায়ে এক উত্তেজিত আঙুলের মতো

নিরাপত্তার মৃদু আংটা হিসাবে

মুমূর্ষু বাবার মাথা কোলে নিয়ে দোলা দেওয়া শিশুটির হাতে

বাবার গলা থেকে উঠে আসা আঙুর রসের মতো গাঢ় রক্ত হিসাবে

আমরা ঈশ্বরকে দেখতে চাই না।

মানুষ এতই ভয়ংকর, ওরা নিজেকে অসংখ্যতে ভেঙে ফেলতে পারে

ওদের প্রত্যেকের জিভে একেকটি  বাসনার নদী।

যখন কন্যাসন্তান কামনায় হাত পেতে

তুমি পাও সারি সারি পুত্রসন্তান, যাদের স্বভাব ঠিক সেইসব মানুষের মতো

যারা কোণঠাসা করে দেয় তোমাকে ,

মজা পেয়ে হাসে, ক্ষমাও চায় না

এ-ও এক আশ্চর্য  ম্যাজিক।

যখন শাসন করবে ভেবে

সন্তানকে বলো একটি  ভালো দেখে বেত বেছে নিতে,

ঈশ্বর তৎক্ষনাৎ তোমার মাথায় একটি গাঁট্টা হয়ে নেমে আসুন, তুমি কি এমন কিছু চাও ?

গাছকেও আজকাল ঈশ্বর বলে আর দেখতে চায় না কেউ।

আশা আদতে এক নির্বুদ্ধিতা, সেইসব মানুষকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় ,

যারা ভালোবেসে ঘর বাঁধে

চার দেওয়ালের মধ্যে পাশাপাশি বুড়ো হতে চায়।

যদি প্রার্থনা করতেই হয়,

দুহাত জোড় করব একেবারে অন্তিম সময়ে

শহর কীভাবে দেখে এক মহিলার কান্নাকে?

উন্মাদনা? নাকি বুকফাটা আর্ত চীৎকার? ওদের কাছে

অস্তগামী সূর্যের  সঙ্গে শেষযাত্রার  এটুকুই প্রভেদ এখন।