কৌস্তভমণি শইকীয়া

জন্ম ১৯৫৬ সলে, অসমের গোলাঘাটে। অসমিয়া ভাষা-সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। অল ইন্ডিয়া রেডিওর প্রক্তন অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর। আকাশবাণীর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত গীতিকার। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, বেতার নাটক, রম্য রচনা সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই স্বচ্ছন্দ বিচরণ।

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ: বাসুদেব দাস

জন্মযন্ত্রণা

একটা কবিতা লিখে উঠেই
আমি কিছুক্ষণ কাঁদি
কাঁদাতেই আমার সুখ
আমার কী অসুখ আমি জানি
সবাইকে বোঝাতে চাওয়া
এক নিবিড় আকাঙ্ক্ষায়
দীর্ঘদিন ধরে আমি অধৈর্য
একটা কবিতা লেখার সময়
প্রতিটি অক্ষর নিয়ে আমি ভাবি
কবিতাটা কেউ একদিন পড়বে
শব্দচর্চায় তাই বারবার
অবিরতভাবে আমি দায়বদ্ধ
মানুষের জন্য প্রাণ পেয়ে উঠা
কবিতা আমাকে স্বপ্ন দেখায়
ভাবের সঙ্গে মধুযামিনী কাটাই
গা-ভারী হয়ে ক্রমে ক্রমে
বেড়ে চলে তা সাদা কাগজের পৃষ্ঠায়
ছাপার মুখ চেয়ে বহুদিন
কবিতাটা সম্পাদকের টেবিলে পড়ে থাকে
কখনও অপাঠ্য আবর্জনা বলে
ওয়াস্ট পেপার বাস্কেটে ঢুকে যায়
তবু জীবনের মায়া
কবিতা আত্মার মতো অবিনশ্বর।

 

অভ্যর্থনা

দরিদ্র কুটিরে তোমাকে আহ্বান জানাচ্ছি
যদিও বা আজকাল প্রায়ই আমি বাড়ি থাকি না
ফুলের কলিতে লুকিয়ে রাখা আছে ঘরের চাবি
নিশ্বাসে পরিচিত গন্ধ নিয়ে খোঁজ কর
দরজা খুললেই হোঁচট খাবে দেখ
কবিতার অসংলগ্ন টুকরোগুলি এখানে সেখানে পড়ে থাকে
এসব আর কিছু নয়
তোমার ভাবের সঙ্গে মিলে যাওয়া
আমার অনুভূতির এক একটি অংশ
তোমার আমার আশাগুলি-হতাশাগুলি
প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গুলি
শোকের সহনশীল শব্দ এবং শান্তির সন্ধিক্ষণ
সবাইকে কালের হাতে রেখে গেলাম কবিতায়
তোমার কুটিরে আমার ছায়া দেখে হোঁচট খেও না
আমি আজকাল সমস্ত বাসস্থান নিজের বলে ভুল করি
রুদ্ধ দুয়ার খোলার চাবি কাঠি কবিতা হতে পারে কি!