কুমারেশ তেওয়ারী

জন্ম আসানসোলের কন্যাপুরে। পড়াশোনা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালিখি করেন। প্রকাশিত কবিতার বই: ‘জুড়ন পুকুর’, ‘ব্যালেরিনা ও নকশি কাঁথায় নষ্ট গন্ধ’, ‘শব্দ স্নানে বেজেছে এস্রাজ’।

আট পংক্তির কবিতাযাপন

প্রকৃত সংলাপে থাকে নাটকের প্রানবন্ত রূপ
থিয়েটারে মায়া ওড়ে ছায়া ঢাকে কুয়াশার ঋণ
রূপের অরূপে থাকা যাপনের নেশাটি রঙিন
অন্তরালে পুড়ে যায় সুগন্ধের পরিযায়ী ধুপ

কেলিময় জগতের রসাত্মক অলকা-তিলকা
এঁকে কেউ রাধাভাব বৈষ্ণবীয় পদাবলি ওড়ে
আপোশের পথ ছেড়ে উচ্চাবচ পথের উপরে
আনপথে ভ্রমণের প্রেম রাখে অনন্ত ঝরোকা


মারকুটে নয় শান্ত স্বভাব নগ্ন দিঘির জল
ধর্মবকের প্রশ্ন নিয়ে নেই অতলের তল
ঠুন গেলাসে রঙিন তরল রোদ ঝাঁকানো রস
ভরছে যারা, ভাঁট-শালিকের রক্ত লাগা কষ

দেখছে না বা দেখেও হয়তো অন্য দিকে মুখ
কার হেঁসেলে ছায়াছন্ন মুখ লুকিয়ে সুখ
হাঙ্গামা নয় শান্ত সরল অর্থবহ তির
তাক করা আর চুপ বসেছে মন্দিরাকাল স্থির


করতলে নদী রাখি স্রোতমেখে শরীর মজাই
আগুনে পরম খুঁজি পোড়া দেহ সমূহ নাচাই
ছন্দের প্রকৃত বাণ শরীরের এফোঁড় ওফোঁড়
চিতামাংস তুলে খায় আচাভুয়া সন্যাসী অঘোর

নকশাচাদরে নামে জাগতিক নক্ষত্রের রাত
ভুষণ্ডির কালো মাঠে নাঙ্গা বসে অচেনা সাঙাৎ
মুঠো ভরে মুঠো খোলে মোহময় জগৎ ওড়ায়
আলিঙ্গন খসে গেলে সুতোহীন শূন্যতা ধরায়


কীভাবে পোড়াতে হয় তার কিছু আদ্যপ্রান্ত জানি
মঙ্গলদীপের নিচে সমুদ্রের নরম পারানি
কলাবর্তে আচন্দনে পূণ্যস্নানে বৈষ্ণবি সকাল
তিলক গ্রহনে তাপ দেহ ঢাকে পশমিনা শাল

তালা খুলে দিলে এক স্বয়ম্বর প্রতিকি প্রহরী
কাছে গিয়ে কোলে তুলি কারুগন্ধি নগ্ন হাত ধরি
দেখি কত পাখি ওড়ে ঘরময় করে ওড়াউড়ি
স্রোতের ভেতরে নেমে পয়মন্ত করি স্রোত চুরি


চুলোর আগুনে কত পরিযায়ী ব্যথা পুড়ে যায়
উন্মাদের অন্তস্তলে ঝাউগাছ মাথা নাড়ে খুব
আকন্দফুলের মালা পরে কেউ নিজেরই গলায়
বিভাব কবিতা মেখে জলাশয়ে দিয়ে আসে ডুব

বিমূর্ত মুখের ছবি কোনোক্রমে ছন্দ ফিরে পেলে
বসন্তের পাখি ডাকে পিউকাঁহা অবাক বিকেলে

অলাতচক্রের থেকে নেমে আসে পরাগের প্রেম
বাউল-ফকিরও খোঁজে ছাইচাপা গেরস্ত টোটেম


যেখানেই যাই রাখি মধু রাখি ঠোঁটের নীগড়ে
ইমনের ঠাট এসে কন্ঠদেশে কামড় বসায়
গেরস্ত পুতুলগুলি অসম্ভব নড়ে আর চড়ে

দেখি সব স্রোত মাখা যাপনের একুল ওকুল
পারাপার চলে কত বৃন্দগানে গায়কের দল
শূন্য ডালে ফুটে ওঠে কামরাঙা, স্বর্ণচাপা ফুল

সিল্যুয়েট ফেলে চাঁদ ঢেউঢাকা সাগরে ঝাঁপায়
চুপিসারে লাউডোগা উঠে যায় লাউয়ের মাচায়


খাম্বাজের ঠাট থেকে উঠে আসে তিলক কামোদ
বাদী আর সমবাদী স্বর তোলে দ্বিতীয় প্রহর
বর্জিত ধৈবত দেখি শূন্য মুখ ফ্যাকাশে কুসুম
উৎসুক পে‘তে কান জাগে শুধু বিশ্ব চরাচর

শেকলের ছল এঁকে যারা যারা ঘুমোয় চরম
মকরসংক্রান্তি থেকে তুলে নেবে বলে পুণ্যস্নান
ত্রিশুলের শিরে রাখে বিশ্বাসের সিঁদুর ধরম
অবরহনের ঘরে কড়া নাড়ে আচাভুয়া গান


আমি তো কবিতা মাখি কবিতার অনন্ত কাঙাল
ধ্যান মাখি ধ্যান ছাড়ি অস্থিরতা গিলে খায় শব
মাধুকরি বেশ ধরি হাত পেতে ভিক্ষা করি চাল
জানিতো দিনের শেষে শুরু হয় গেরস্ত পরব

সমাপনে সিদ্ধ হতে খুলে রাখি যত ছদ্মবেশ
তির্যক কাঁটায় রেখে সচেতন পায়ের পরখ
শরীরে ছড়িয়ে দিই লগ্নময় যুদ্ধের আবেশ
প্রশ্ন হাতে অপেক্ষায় জলাশয়ে মহাধর্মবক