মারাম আল-মাসরি

মারাম আল-মাসরি 

জন্ম ১৯৬২ সালে সিরিয়ায়। এখন প্যারিসে থাকেন। বর্তমান প্রজন্মের সিরিয়ার কবিদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। অ্যাডোনিস পুরস্কার পেয়েছেন।

অনুবাদ  |  নন্দিনী সেনগুপ্ত

 

ভবিতব্য  ১

আমি সেখানে যাবো না।
আমি কিছুতেই সেখানে যাবো না।
যাবো না ওই গলির মোড়ে
জানি সেখানেই সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি এখন আমার চুল ধুচ্ছি।
যদি সে চুলে মুখ ডুবিয়ে আদর করতে চায়!
আমি শরীরে আতর লাগাচ্ছি
তার পছন্দের খুশবু।
যদি সে আমাকে আলিঙ্গনে জড়াতে চায়!
আমি যাবো না
কিছুতেই যাবো না সেইখানে।
ওই গলির মোড়ে-– যেখানে
সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
এই যে, আমি শিকল দিয়ে বাঁধছি নিজের পা।
যাবো না।
উফফ, জ্বর হবে
খুব জ্বর হোক আমার।
যাবো না।
এই যে, গায়ে কোট চাপালাম।
যাচ্ছি।
মূর্খ পাঁঠী!
হাড়িকাঠ ছাড়া কোথায় যাবে!

ভবিতব্য  ২

লবণের স্ফটিকদানার মতো
চকচক করে উঠেছিল
তারপর গলে গিয়েছিল।
হ্যাঁ, তারপর একেবারে উবে গিয়েছিল
সেই সব পুরুষেরা
যারা কোনোদিন

আমাকে ভালোবাসেনি।

জীবন

কতখানি নষ্ট হবে তুমি?
এমন কিছু হয়ো না যে
বমন করে উগরে ফেলি।
জ্বলে ওঠো, অঙ্গার হও।
দুটো গাছের শুকনো শাখার
ঘষায় যেমন আগুন জ্বলে।
অঙ্গার হও।
আমার হৃদয় প্রকোষ্ঠেতে
এমন আগুন ভালোবাসি।
আমার ঘরে জীবন আমি
ঠিক এভাবেই ভালোবাসি।

লোকটাকে দেখেছ তুমি

লোকটাকে দেখেছ তুমি?
কোলে করে নিয়ে যাচ্ছে-
নিজের বাচ্চাকে।
কী গর্বিত পদক্ষেপ!
মাথা উঁচু, শিরদাঁড়া সোজা।
বাচ্চাটারও খুব খুশি
গর্বিত বোধ করার কথা
বাবার কোলে চড়ে।
হ্যাঁ, সেটাই হতে পারত
যদি বাচ্চাটা বেঁচে থাকত!