মাইকেল ব্রেনান

মাইকেল ব্রেনান  |  জন্ম  ১৯৭৩

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে ১৯৭৩ সালে জন্ম। ইউনিভার্সিটি অব সিডনি থেকে ২০০১ সালে পিএইচডি করেন। এখন কর্মসূত্রে বসবাস টোকিওতে। তাঁর প্রথম বই ‘দ্য ইমেজলেস ওয়ার্ল্ড’ ২০০৪ সালে পায় মেরি গিলমোর অ্যাওয়ার্ড। তাঁর দ্বিতীয় বই ‘ইউন্যানিমাস নাইট’ ২০০৮ সালে সম্মানিত হয় উইলিয়াম বেইলব্রিজ মেমোরিয়াল প্রাইজ। সমসাময়িক অস্ট্রেলিয়ান কবিদের মধ্যে অন্যতম।

ভাষান্তর | পারিজাত ব্যানার্জী

 

পুনর্জন্ম

সূচনা হল আরও একটি শুভ সকালের।
আবার, আরও একবার,
দ্বিতীয়বার সুযোগ পেল পৃথিবী—
সাদা উষ্ণতার চাদর গায়ে আলতো ভাবে জড়িয়ে
বেড়িয়ে পড়তে আড়াল সরিয়ে—
রাতের অন্ধবৎ গহ্বরের ভ্রূকুটি!
স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে এবার হয়তো ভাবার সময় এলো,
পুনর্জন্মের এই নির্নিমেষ চক্রব্যূহে
স্থিরতা আর গতির ঠিক কোনও আরোপিত বলে
কি অবস্থায় কার আদেশে মনন জীবন পেলো!
নিপাট সাজানোগোছানো সব আস্তরণে
সমুদ্রতটে আটকে থাকা তোমার আঁচলের মতো
লেগে থাকে যেমন কাপের গায়ে কফির অবিচ্ছেদ্য দাগের টাটকা ক গাছা সুতো—
বা সুমেরু মহাসাগরের প্রাচীন আস্তরণ ঘেঁটে
যখন বেড়িয়ে আসে আবহাওয়া দপ্তরের হিমবাহী তাক, মোহগ্রস্ত—
আর স্বপ্নের আরেকটি পরতের মতো
অন্তর্বাসের নিভৃতে ঘুমিয়ে থাকা চোখের কোণায়
মরমি স্পর্শরা এঁকে চলে অবিরত!
জানান দেয়,
একা নেই তুমি কখনওই
এই বৃহদাকার দুর্লভ দুনিয়ায়!
এই পৃথিবী আসলে যে এক বিরল মহাকাশযান—
গন্তব্যেরা যেখানে কখনই হয়না অবধান!
সময়-পান্থ, যাও, এগিয়ে যাও তোমার ভবিষ্যতে—
প্রাক্তনী সব গাছেদের বেড়ায় লেখা ভবিতব্য বিচার করো নিজের মতো করে, অকপটে।
কাজ থাকবে পড়ে কিছু- এদিকওদিক।
সকালের খবরের কাগজের ভাঁজে, কিংবা ওবেলার সব কাপড়জামা কাচায়।
উপবৃত্তাকারে ভর দিয়ে
কখনও কাছে কখনও দূরে সরে যেতে যেতে
চলতে থাকবে সৃষ্টিতত্বের কথাও ঠিক নিজের মতো করে
নবীন কোনও সামান্য আলাপচারিতায়!
বৃহত্তর এই ছাঁচের হিসেব মিলবে অনেক পরে
আচমকা কোনো অকপট দুর্ঘটনায়—
যখন অকস্মাৎ তার ঠোঁটের কোণের হাসি
পাঠোদ্ধার করবে তুমি তোমার জৈবিক  বর্ণমালায়!
ভালোবাসার প্রতিবিম্ব যেদিন হদিশ পাবে তোমার—
বিষ্ময় আর অধ্যবসায়ের ভাঁজে ভাঁজে
সেদিন ঠিক ডাক দেবে সব বিস্মৃতরা অপার।
ধুলোকণা আর তারাকুচির ঢেউ তখন সামলে যাবে এমনিই—
আপনমনেই বেখেয়ালিরা গড়ে চলবে
অনন্ত নিরাকার পরপার!