রঙ্গন রায়

জন্ম: ১৯৯৮
জলপাইগুড়িতে বসবাস।
বাংলা সাম্মানিক স্নাতক স্তরে পাঠরত।
কাব্যগ্রন্থ: প্রাপ্তবয়স্কতার পূর্বদিক

হিরোশিমার প্রেমিক

জোয়ান বীজের গানের কাছে আমার অনেক স্মৃতি জমা পড়ে আছে।
অনেকদিন পর যখন আমাদের কথা হয় অনেক অনেক দূর থেকে
আমি টেকনোলজির কাছে মাথা নত করে ফেলি, আকন্ঠ প্রেম নিবেদন করি–
বাড়ি ফেরার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়, যখন কিছুক্ষণের জন্য সমস্ত
সময় অতিক্রম করে তুমি আমার ছোট্ট ঘরে আমার কাছে আসো;
এভাবে দিনগুলো খারাপ কাটে না আর যাই হোক–
হিরোশিমার এক প্রেমিক মাঝেমধ্যে স্বপ্নে আসে,
আমরা একসঙ্গে তার প্রেমিকার সন্ধান করি …
কোনও দুর্বোধ্য জাপানি সঙ্গীতের কাছে তাকে ঋণী রেখে ফিরে আসি
নিজের বারান্দায়, দূরে কেউ আমার নিদ্রিত শরীরের ছবি
দেখে নিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে– আমাদের কাল্পনিক বন্ধুত্ব গাঢ় হয় রোজ

 

হাসপাতাল

এবং রিক্সা টানা লোকটি আমাকে জীবন বোধের কথা শুনিয়ে যায়,
চাকায় স্পার্ক করে বৃত্তের মত জলের দাগ…
কপাল বেয়ে যতটা ঘাম তুমি নামিয়ে আনতে খালি পায়ের শিশুদের সঙ্গে হেঁটে;
এখনও সেসব কথা ভাল লাগে–
অসুস্থতার কথাগুলো কেন অপূর্ব বর্ণনায় তুমি পরিবেশন করো?
আমি ওসব পছন্দ করি না। কোমার ভেতরে থাকা প্রতিটি মুহূর্ত কীরকম হয়,
আমি ওসব পছন্দ করি না। তোমার লম্বা চুলের স্মৃতি এখনও একই রকম সুন্দর–
দেখো, প্রতিটি অসুস্থতার ভেতর দিয়ে তুমি ফোন কানে হেঁটে যাচ্ছ কদমতলায়
আর আমি সাইকেল চালাতে চালাতে চমকে উঠছি,
অথচ ছাতার বিষণ্ণ রং হাসপাতালের বিছানার মতো–
আমি বারবার সাইকেল থেকে নেমে হাঁটতে থাকি তোমার পাশে
ইচ্ছে মতো রাস্তাগুলোকে সাজিয়ে নিই যেন জিগস পাজল্–
তবুও হেঁটে চলা পথিকরা আমার মাথায় অসুখ ঢুকিয়ে দেয়,
আমি ওসব একদম পছন্দ করি না।

 

শিল্পকর্ম

ভাবি প্রতিটি ভোরের সেই দুর্দান্ত সুন্দরী ডাহুক পাখির চমকানো,
ঘাড় তুলে সন্দেহ প্রিয় পাখিদের সঙ্গে প্রতিটি প্রেমিকার সৌন্দর্যের
তুলনা চলে। সাদা টগর ফুলের মতো সূর্য এসে জানালা দিয়ে ঢোকে
ব্রহ্ম মুহূর্ত পেরিয়ে– একা আমি জেগে থাকি, নিশাচর। ভোরবেলা
আমার কাছে সদ্য ভালোবেসে ফেলা বান্ধবীটির মতো। তাই জেগে থাকাগুলো
সার্থক ও সুস্বাদু হয়– বেঁচে থাকাগুলো ভেসে থাকার চেয়েও
অনেক কিছু, যেন এইমাত্র পড়ে যাওয়া আম, কুড়োচ্ছে শৈশব