রোজ আউস্ল্যান্ডার

জন্ম: ১৯০১ সালে, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের অংশ বুকোভিনায়। প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। নাম ‘ডেয়ার রেগেনবোগেন’ (ইন্দ্রধনু)। সমালোচকদের মধ্যে বহুল প্রশংসিত হলেও বিশেষ সমাদৃত হয়নি পাঠকমহলে। কারণ, রোজ ছিলেন ইহুদি। জীবনের বড় অংশ বিভিন্ন টানাপড়েনের মধ্যে কাটিয়েছেন ইউরোপ এবং আমেরিকায়। জার্মান ছাড়াও লিখেছেন ইংরেজিতে। তাঁর দ্বিতীয় কবিতার বই ‘ব্লিন্ডার জোমা’ (অন্ধগ্রীষ্ম) ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই পাঠকমহলে সাড়া ফেলে দেয়। জীবনের শেষ ভাগ কেটেছে জার্মানিতে। মৃত্যু ১৯৮৮ সালে।

অনুবাদ: নন্দিনী সেনগুপ্ত

হাওয়ার বাড়ি

অদৃশ্য সেতু বাঁধা হতে থাকে
তোমার সঙ্গে অন্য সবার,
তোমার সঙ্গে নানা জড়বস্তুর,
তোমার নিঃশ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে বাতাসের।

মানুষ যেভাবে নিজেদের মধ্যে কথা বলে,
কুসুমিত কুঁড়িরাও ঠিক সেভাবে কথা বলে ওঠে।

এই হাওয়ার বাড়িতে স্থিতু হয়ে যায়
এক মানুষকুসুম সময়।

 

কিছু বাকি আছে

এখনো উজ্জ্বল হয়ে আছে
ধূলিকণাগুলো,
যেগুলো একসময়
জীবন্ত রক্তমাংসের অংশ ছিল

চোখের পাতায় জন্মায়
এই আলোগুলো

ঠোঁটগুলোর
হ্যাঁ…
বাকি আছে…
এখনো অনেক
ওদের অনেক কিছু বলার আছে।

 

মাতৃভাষা

আমি নিজেকে বদলে নিয়েছি
প্রতি পলকে
প্রতি চোখের পলকে

শব্দের রাস্তায়
টুকরো টুকরো হয়ে
ছিটকে পড়েছিলাম

মাতৃভাষা আমাকে কুড়িয়ে
সাজিয়ে গুছিয়ে রাখলো আবার

সব টুকরো জুড়ে জুড়ে এবার
একটা মানুষের মোজেয়িক তৈরি হল।

 

বিচগাছের পাতা

জঙ্গল থেকে উড়ে এলো
একটা বিচগাছের পাতা,
আর ঠিক তক্ষুনি
আমার জন্মভূমির শহরটা
ঢুকে পড়ল আমার বসার ঘরে।

আমাকে দুদণ্ড শান্তি
দিতে এল বুঝি-বা

সেই যৌবনের কালবেলা,
ভাবনাচিন্তা অঙ্কুরিত হয়ে ওঠার সময়,
হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়, বন্ধু এবং
পাহাড়গুলো- সব, সব আছে সেখানে।

পাতাটার সূক্ষ্ম শিরা উপশিরা
সবকিছু যেন আমাকেই…
আমাকে উৎসর্গ করল।