রুদ্র সিংহ মটক

রুদ্র সিংহ মটক |  জন্ম  ১৯৫৯

১৯৫৯ সনে জন্ম।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাহসী মানুহর হাতত’, ‘কবিতার পৃথিবী ক’ত’, ‘ভালপোৱার জলফাইরঙী পৃথিবী’ এবং ‘আর্টগীল্ডত এসন্ধ্যা’।যোরহাট সাহিত্য সভার ‘বকুল বন বঁটা’ এবং অসম কবি সমাজ কর্তৃক আম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী বঁটা দ্বারা সম্মানিত।স্টেট ব্যাঙ্কে কর্মরত।  

ভাষান্তর | বাসুদেব দাস

 

মেণ্ডেলার মুক্তির দাবিতে

মেণ্ডেলা।

মাটি এবং আকাশের সঙ্গে তোমার

কী যে অকৃত্রিম

সহজ সম্পর্ক

তুমি অসুস্থ বলে জেনে আমার মতোই

এক বুক দুঃখে

মুষড়ে পড়ল চাঁদ আর আকাশ

বিবর্ণ হল ফুল

ভেঙ্গে পড়ল ডালের পাখি এবং

বাতাস

থমকে রইল ঝরণা আর নদী

মানুষ আর পৃ্থিবীর সঙ্গে তোমার

কী যে গভীর ,সীমাহীন

আত্মীয়তা

তোমার মুক্তির দাবিতে,ভূগোল ভেঙ্গে জেগে উঠল

দেশে দেশে যুদ্ধের পদাতিক

যুদ্ধের ঘোড়ার মিছিল

গর্জে উঠল নৈঃশব্দ ভেঙ্গে ঝড়ের পাখি

আর

ক্রোধী সমুদ্র

বিস্ফোরিত হল আগ্নেয় দিন

অগ্নিগর্ভা পৃথিবী

 

স্বাধীনতা আমার স্বপ্ন আমার গান

স্বাধীনতা আমার ঠোঁটের প্রিয় শব্দ,স্পন্দিত বুকের

প্রিয়তম গান যার আকাশময়তায় আজন্ম আন্দোলিত

আমার ধমনীর রক্ত,নদী আর অতল

সমুদ্র-গর্ভ

আমিতো কখনও দেখতে চাইনি

আশাহত মানুষের মুখ

দারিদ্র পঙ্গু করা দিন শূন্য ভাঁড়ার উচ্ছন্ন মাঠ

রক্তে মাখামাখি স্বদেশ চিতার আগুন

আমিতো প্রত্যক্ষ করতে চাইনি নিথর নদী ভয়ার্ত

বোবা বাতাস

গলিত তামার রঙের আকাশ

আমি আজ বুঝতে পেরেছি কত লোভে

আহত হয় সময়

দানব হয় জমিদার-মহাজন-নেতা-পুঁজিপতি

পাপের সম্রাটেরা হয় পৃথিবীর স্বঘোষিত ঈশ্বর

ও আমার ছিন্নমস্তা দিন স্বপ্নভঙ্গ

শতচ্ছিন্ন স্বাধীনতা

তুই আজ জ্বলে জ্বলে আগুন-জোয়ারের

রক্ত হয়ে উঠ

আমার মানুষের বুকের মধ্যে

বিপুল পারমানবিক বিদ্রোহের কবিতা

অন্ধকার সাগর ভেদ করে উঠে আসবে একদিন

রোদ-শোণিতের শক্তিশালী সূর্য

 

কবি

মনের মাধুরী ঢেলে যে ছবি আঁকে সে শিল্পী

কপালের ফোঁটা ফোঁটা ঘাম ফেলে কালো মাটির সীরলুতে

যে সোনালি স্বপ্ন খোদিত করে লাঙলে

সেও শিল্পী

ফসল ফলুক বা না ফলুক কলমের

অনুভূতিগুলি

অনুভবের রঙ্গভূমিতে

প্রত্যেকেই শিল্পী,প্রত্যেকেই কবি

টীকা-

সীরলু- লাঙলের আঘাতে জমিতে সৃষ্ট ক্ষুদ্র পরিখা।

 

প্রেমের ফল্গুধারা বইয়ে দাও

প্রেমের ফল্গুধারা বইয়ে দাও

মধ্যযুগীয় ধর্মের আফিঙ খেয়ে

এখন যে মাতাল সময়

মসজিদে আগুন জ্বলে

মন্দিরের স্বর্ণচূড়া খসে

কেঁপে উঠে দেশের মানচিত্র

আকাশে ছড়ায় ভয়ের

কালো মেঘ শঙ্কার ভূত

কুটি কুটি করে খাই প্রেমের সবুজ

শুষে নিই

বিশ্বাসের রক্ত

শ্বাস প্রশ্বাস কীভাবে নিই

বাতাস ছাপিয়ে বিস্ফোরণের গান

এখানে রামের রক্তে জ্বলে আজানের প্রদীপ

রহিমের রক্তে

শুদ্ধ হয় মন্দিরের বেদী

আমরা যে মানুষ কীভাবে সই

রক্তক্ষরিত মাটির প্রজ্বলিত মুখ।

ঈশ্বরকে বারবার শাপ দিয়েছি

আল্লাকে অভিশাপ

এসো পুনরায় বিশ্বাসের হাত মেলে

একে অপরকে আলিঙ্গণ করি,

চুমু খাই একে অপরকে

ধর্মহীন এই পাপের পৃথিবীতে

 

কবিতার সঙ্গে চিরকাল

কবিতা চোখের জলের নূন নয়

আমার কপাল থেকে ঝরে পড়া ঘাম

মাটির গন্ধমাখা ভূখণ্ডের

সোনালি ধান

কবিতা জানে লাল রক্তের উষ্ণতা

কীভাবে ধারণ করতে হয় ভাষার ব্যঞ্জনা

সংস্কৃতির জ্যোৎস্নালোকিত ছায়া

এবং ঐতিহ্যের শিকড়

কবিতা আমার অভিমান

কবিতা আমার হিল্লোলিত স্বাভিমান

কবিতা থাকলে বুকের

ভেতরে বাইরে

আমার মনে হয় দশটা

মাটির প্রদীপ

জ্বলজ্বল করে জ্বলছে

মা যত্নের সঙ্গে

লাগিয়ে যাওয়া

উঠোনের তুলসী তলায়