সতীন্দ্র অধিকারী

জন্ম ১৯৯২ সালে।
বাঁকুড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম নিত্যানন্দপুরে বেড়ে ওঠা এবং বসবাস।
পেশা: টিউশন! শৈশব থেকে লেখালেখির শুরু।

বিষাদ

ভাষাহীন নিঃস্তব্ধ রাত্রির মতন কারো চেয়ে চেয়ে
থাকতে ভালো লাগে সাতাশটা বছর!
সারা রাত জেগে কি করে মানুষেরা শাদা পাতায়
মহাজাগতিক শূন্যতা আর শূন্যতার ভিতর

লিখে রাখা সেই সব হাহাকারগুলি।
একদিন রিখটার স্কেলও চৌচির হয়ে ছড়িয়ে পড়বে
মেঝের ওপর। ছড়িয়ে পড়বে মা’র রেখে যাওয়া পুরীর হাঁড়ি
আর আমাদের ছ্যাৎরানো টিনের চামচ

যেভাবে আল ভেঙে নেমে আসে জলের দাগ
রাত্রি নামে
কারো কারো বাড়িতে খোলা হয় হলুদ খাম
পুরানো জামার বদলে কেউ কেউ বেছে নিয়েছে ভায়োলেট শার্ট

তবে কি করা উচিৎ!
আমাদের হা- হুতাশগুলি রবারেরে মত টানতে টানতে
কে বাড়িয়ে দিচ্ছে দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে!

 

পরাধীন মানুষ

তুমি কি আসবে আমাদের এই ক্ষয়ে
যাওয়া জীবন গুলিতে স্তব্ধ রাত্রির মত!
বাবার আসনের সামনে ঝুঁকে
গড়িয়ে রাখবে এক গ্লাস জল?

আমার মনে এখন শান্তি নেই।
তিক্তরাত্রির মতন
সকালও যেন
বেছে নিয়েছে বিষাদমাখা ঘন অন্ধকার

কি করব তবে! ছ্যাৎরানো জীবন নিয়ে!
পালিয়ে যাব কোথায়
কতদূর…
নিজের কাছে পরাধীন অ্যাক মানুষ দেখি রোজ!

 

মুদুন

সারা রাত ঝমঝম ঝমঝম বৃষ্টি!
আর আমাদের টালির ফাঁক থেকে ঝরে পড়ছে
সেই সব দেবতাদের পা-ধোয়া জল

এক হাতে আমাদের বুকে
টেনে নিচ্ছেন বাবা আর এক হাতে
মুড়ো ঝাঁটা নিয়ে বিড়বিড় করছেন
নিজেই

মুদুনটা দেখছি না সারালেই নয়!