সুবীর সরকার

জন্ম ১৯৭০ সালে। বেড়ে ওঠা উত্তর জনপদের কোচবিহার শহরে। নয়ের দশকে কবিতা লিখতে এসেছেন। ভিন্নধর্মী গদ্যও নিয়মিত লিখে থাকেন। বেশ কয়েকটি কবিতা ও গদ্যের বই রয়েছে। লেখা পড়া আর হাটগঞ্জের ভিতর ঘুরে বেড়ানোর যাপনেই মেতে থাকেন। প্রকাশিত হয়েছে একাধিক কবিতার বই।

বাহান্নঘর কলোনি থেকে

বাহান্নঘর কলোনি থেকে আমি আর্তনাদ তুলে
এনেছি
জোড়া পুকুরে ডুবে মরা সেই সাহেবের ঘোড়া
আজও মাঝে মাঝে বাংলোর মাঠে বেড়াতে
আসে
আমার জীবনে কোন গনগনে দুপুর নেই
আমার জীবনে কোন অনন্ত আহ্লাদ নেই
সমস্ত ব্যর্থ প্রেমের গল্পে আমি ওডিকোলন
ছড়িয়ে দিতে জানি
তোমার ফর্সা বাহুতে আমি আঙুল রাখি
মোরগ লড়াই শেষে তুলে আনি
তির ও ধনুক

 

গানজংশন

পর্যাপ্ত বৃষ্টির ভেতর আমি তোমাকে প্রপোজ
করেছিলাম
দু’মিনিটের একটা গানের পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে
ছিলাম
নীল রঙের হাওয়াই শার্ট
অতিরিক্ত সরু কবজি
শিমুল গাছের ছায়ায় আত্মপীড়ন নামিয়ে
রাখি
নদী ও পাখির দেশে প্রবীণ ব্যাধ
ডায়নার জঙ্গল
হাতি ভাঙছে গাছের ডাল
এই সাজানো পরিধি জুড়ে
সেতারধ্বনি
আবার সেই দু’মিনিটের একটা গান
আবার সেই অনবদ্য কল্পনা পাটোয়ারী
জাদুসিরিজ লিখছে অনিলের
কাঠিঢোল
বেনোজলে ভেসে আসা কবেকার মরা
মাছ
জংশনে জংশনে সিগারেট রেখে আসি
বাজারে বাজারে লণ্ঠন রেখে আসি
কেউ কি শোনাতে পারেন হায়নার
হাসির শব্দ
আমাদের কোনো বাঁশিওয়ালা নেই
সে অর্থে কোনো নেটওয়ার্ক নেই
জামগাছের ডালে দোলনা বানিয়ে আমরা
দোল খাই
আমাদেরকে খুব লুকিয়ে দেখে নেয়
ইঁদুরেরা
ফাঁকা গমখেতের দিকে উড়ে যায় আমাদের
কবিতা
কম্পাস হারিয়ে ফেলে তুমি কাঁদছিলে
বর্ষাকাল হারিয়ে ফেলে তুমি কেঁদেছিলে
ফুলসজ্জা হারিয়ে ফেলে তুমি কেঁদেছিলে
খুব সন্তর্পণে ধূসররঙের এক গুহার দিকে
এগিয়ে যাচ্ছি
আর প্রতিটি ডুবের পাশে ডুবোজাহাজ
পেয়ারা গাছের আড়াল থেকে লাফিয়ে নামছে
বেড়াল

 

কনফারেন্স

নরম বিছানা ছেড়ে, প্রিয়তম পুরুষ ছেড়ে
এই মধ্যরাতে তোর কনফারেন্স
শুনি
তোর জন্য এনে রেখেছি পেনিসিলিন ইঞ্জেকশন
কিটস ও শেলীর মতন কিভাবে তোর পাশে
তিস্তাপুরাণ
কালজানির হাওয়া এই তোর্সাদেশে
তোর দোপাট্টায় নজরবন্দি মেঘ
মঞ্চে কাঁপতে থাকা কবিকে দেখি কি মুখর
ও সাবলীল
ভাস্করের কবিতায় একটা বলরুম থাকে
অরুণেশের কবিতায় দু’চারটি পুষ্করিণী থাকে
তোদের কনফসরেন্স থেকে গড়িয়ে পড়তে
থাকেন ইলিয়াস
মধ্যরাতের সঙ্গম ভুলে গিয়ে
শাওয়ার ও সাবান ভুলে গিয়ে
তোরা কেবল নষ্ট করিস তরুণ কবির রাতের
ঘুম
কনফারেন্স মানে জোঁকের মুখে নুন
কনফারেন্স মানে হলুদ সরষেখেত
মাতিসের ছবির মাকড়সার মতন তোর প্রিয়তম
পুরুষ ছটফট করতে
করতে ঘুমিয়ে পড়ে একসময়
অথচ কনফারেন্স শেষ হতেই চায় না
এইসব ভুলে যাওয়া রেওয়াজ
এইসব ফুটে ওঠা ভোরের ছবি
এইসব কাতরতা সরিয়ে সরিয়ে
ঘাড়ে গামছা ঝুলিয়ে সারাজীবন ধরে আমি
কেবল শুনে যেতে চাই
এইসব কনফারেন্স।
মহামান্য এপিটাফের মত
ডেটল ও এপ্রনের মত।হাঁস ও হাসপাতালের
মত।