সুমন মল্লিক

জন্ম ১৯৮৫ সালে কোচবিহারে৷ বর্তমানে শিলিগুড়িবাসী৷ ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর  পেশায় শিক্ষক৷  প্রকাশিত কবিতার বই পাঁচটি ৷ শখ : ভ্রমণ, গান শোনা, সিনেমা দেখা, ছবি তোলা এবং বই পড়া ৷

সেসব কথা

সেসব কথা জানে শুধু প্রিয় নদী৷
চাঁদের আলোর মাঝে কীভাবে
একটুকরো অন্ধকারে আমি আর তুমি
চকোর হয়ে যেতাম…
কীভাবে আমাদের বুকের ছলাৎছল
মিশে গিয়ে দু’জনকে ডুবিয়ে রাখত তৃপ্তিতন্দ্রায়৷
সেসব কথা আর জানে শুধু অরণ্য৷
শুকনো শালপাতার জাজিমে
তুমিই প্রথম শিখিয়েছিলে লজ্জাহরণ-–
বেকাবু হবার বেমিসাল এক তালিম৷
সেসব বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতের কথা
আজও প্রদীপের মতো জ্বলছে মনের মাঝে৷
সেসব কথা আর কেউ জানবে না,
সেসব কথাই আমাদের ভাঙা সাঁকো আর ভাল থাকা৷

 

কাঙাল

তুমি চলে যাবার পর যে দূরত্ব তৈরি হয়
তার মাঝে একবুক গজলে দাঁড়িয়ে লিখি
অসীম স্বপ্ন …
কুড়ি সেকেন্ড ঘুমোলে, একুশতম সেকেন্ডে
তুমি জাগিয়ে দাও আমাকে, আমার পিপাসাকেও৷
সাহুর পারে হাঁটতে হাঁটতে যখন
শুধু আঙুলটুকু ছোঁয়ার অধিকার দাও আমায়
হয়তো মনে মনে ভাবো, কেন আমি প্রেমের কাঙাল৷
আসলে প্রেম যে পায় না
তারই তো প্রেম আসে বেশি করে৷

 

আত্মগোপন

মাঝে মাঝে ভাবি কিছুদিনের জন্য আত্মগোপন করব৷
অলস সময়ে শিকার করব অপূর্ণ স্বপ্নদের৷
অর্ধেক যতটুকু পেয়েছি তোমাকে, ঘুমের ভেতর
কিংবা জেগে জেগেই তার সাথে তর্ক করব, কাঁদব,
আবার আনন্দ ও আদরে একাকার হবো৷
কখনও সুনীল, কখনও শক্তিতে ডুবে থাকব…
কখনও বিষ্ণু, কখনও জীবনানন্দে৷
কোন ভিড় নেই, কোন দৌড় নেই, নেই কোন জুলুম..৷
শুধু নিজের গন্ধের সাথে মিশে থাকা তোমার গন্ধ দিয়ে
সারা ঘর ভরিয়ে রাখব
আর হারিয়ে ফেলা সময়কে ফিরিয়ে এনে একান্তে শোনাব
এক মফস্বল-ছেলের ঘুরে দাঁড়াবার গল্প৷

আত্মগোপন আর করা হয়ে ওঠে না শেষমেশ৷
একটা জালের মধ্যে পেঁচিয়ে আছি – কত মাছ, কত মায়া…৷
আমার গুটিয়ে থাকা শরীরের চারপাশে খেলা করছে
পৃথিবীর সমস্ত হরিণ ও বাঘ৷