চুনিবালা: সুজিত সরকার

0
7

উত্তর কলকাতার এক নিষিদ্ধ পল্লীর প্রায়ান্ধকার ঘরে
চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়
খুঁজে পেয়েছিলেন ‘পথের পাঁচালি’র ইন্দির ঠাকরুণকে

 

এ যেন এক আবিষ্কার
কবি রিলকে ও ভাস্কর রদাঁর কিংবা বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণের
প্রথম সাক্ষাতের মতো।

 

গাল তুবড়ে গেছে, শরীর ঝুঁকে পড়েছে সামনের দিকে, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ
আশি বছরের বৃদ্ধা চুনিবালা নিঃশব্দে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন
জীর্ণ ঘরের এক কোণে—
বলার মতো ঘটনা চলচ্চিত্রে-মঞ্চে একটি-দুটি অভিনয়, যা,
কবেই ভুলে গেছে লোকে
—এমন সময়ে, সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে, সত্যজিৎ রায়ের আবির্ভাব।

 

মৃত্যুর দৃশ্যে এ কি অবিশ্বাস্য অভিনয়! —চমকে গিয়েছিলেন পরিচালক স্বয়ং;
চমকে গিয়েছিল তামাম দুনিয়া।

 

হায়, ‘পথের পাঁচালি’ মুক্তির আগেই মৃত্যু হয়েছিল চুনিবালার!
জীবদ্দশায় কোনো সম্মানই যিনি পাননি, সেই তিনিই, মৃত্যুর পরে
পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার!
তাঁকে খুঁজে না পেলে ‘পথের পাঁচালি’ করাই হতো না—বলেছিলেন সত্যজিৎ।

 

চুনিবালা দেবী বিশ্ববিখ্যাত মহান চলচ্চিত্র-পরিচালকের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।