Bhashanagar

আবির্ভাব ভট্টাচার্য

জন্ম ১৯৯৩, বর্ধমান। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে সেখানেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। কবিতার বই রয়েছে দু’টি।

টুকরো টুকরো স্যানিটোরিয়াম


রক্তপাত হয়
এখানে বিকেলবেলায় পশ্চিম আকাশে
দেয়ালের গায়ে গায়ে বিয়োগের দাগ
আত্মজৈবনিক
ক্ষয় জেগে থাকে।


আমার পাশের বিছানায়
যে ছেলেটি আছে
প্রায় দেখি মধ্যরাতে জেগে বসে থাকে!
আমাকে সে গোপনে বলেছে
তার মন, ইতিহাসে নয়
শিক্ষিকার ভ্রমর কাজলে!…


ইস্কুল বিকেল মনে পড়ে
খেলা খেলা দিন চোখে ভাসে।
এখানে সবাই শিশু, ইস্কুলে পড়ে না
নিয়মিত পান করে তরল! তরল!
বশ্যতা! বশ্যতা!


বিকেলের ঘ্রাণ
ওষুধের গন্ধে গিয়ে মেশে
সমুদ্রের তলদেশে রাখা
স্তব্ধতার মত
একটা দুটো শুশ্রূষা গেলাতে
এখানেও দিদিমণি আসে।


ছেলেটিকে কীভাবে বোঝাবো
উনি দিদিমণি
তুমি তার দিকে তাকাবে না
রুগ্ন ইতিহাস বই নিয়ে
মলিন পাতায় নিচু চোখে,
নিচু নিচু মুখে
পাঠক্রম খুঁটে খুঁটে মধ্যযুগ শুধু বুঝে নেবে!


‘পৃথিবীর অশ্রুজল সমুদ্রে রক্ষিত হয়ে আছে!
জলের ভেতর থেকে শব্দ আসে না তাই রক্ষে
অন্যথায় জলজের কান্না
পৃথিবীকে ভেঙেচুরে দিত!’
আমাকে যে একথা বলেছে
সে একদিন কলেজে পড়াত…


বিছানার পাশে
সকলের বিছানার পাশে
একটি করে টেবিল রয়েছে
সঙ্গ দেবে বলে।
সেখানে সাজানো আছে সেবার পসরা!


দুপুরে খাবার এলে নির্লিপ্ত তাকিয়ে দেখে নেয়।
পৃথিবীর আদিম চাহিদা
স্মরণে থাকে না!


বিকেলে বিকেলে
হাঁটতে যেতে হয়
সামনের বাগানে
এটাই এখনকার নিয়ম।
বেঁচে থাকার পর্যাপ্ত যুক্তি!

১০
কেউ ছাড়া পেয়ে চলে গেলে
দিদিমণি বুঝিয়ে বলেন
ওষুধ, সিরাপ
কিভাবে কী খেতে হবে রোজ।
আড়ালে নিষেধ করে দেন
ভ্রমর আর সমুদ্রস্নান…

১১
তবুও আবার কেউ সমুদ্রকে দেখে
স্তব্ধতার কথা ভেবে বসে,
আবারও কারোর চোখ বই থেকে উড়ে চলে গিয়ে
আলোর কাজলে ডুবে যায়
ভুলে যায় প্রিয় সব নাম,

দূরের পাহাড়ে তাই জেগে ওঠে স্যানিটোরিয়াম!

Bhashanagar