Bhashanagar

অ্যালেন গিন্সবার্গ

মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ (১৯২৬-১৯৯৭) পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পরম বন্ধু। দুই বাংলার অসংখ্য মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় বন্ধুত্ব ছিল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বহু লেখায় গিন্সবার্গের প্রসঙ্গ আছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনীলের সঙ্গে শরণার্থী শিবিরে ঘুরে বেরিয়েছেন গিন্সবার্গ। এই নিয়ে কবিতা রয়েছে তাঁর: September on Jessore Road. কবিতাটি বব ডিলানের সহযোগিতায় পরে গান হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। সেই গানের বাংলা অনুবাদ ‘যশোর রোড’ গেয়েছেন মৌসুমী ভৌমিক। ভারতের বেনারস-সহ একাধিক জায়গায় তিনি দিনের পর দিন ঘুরেছেন। গিন্সবার্গ সমকামীদের অধিকার ও স্বাধীনতা  রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। কবিবন্ধু পিটার অরলোভস্কিকে বিয়ে করেন। ১৯৭৪ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড পান। লালন ফকিরের ভাবাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি।  এই নিয়ে কবিতাও রয়েছে তাঁর: After Lalon. গিন্সবার্গের কয়েকটি বইয়ের নাম: Howl and Other Poems, Planet News, Indian Journals, Mind Breaths, Iron Horse, Howl Annotated ইত্যাদি। ‘A Supermarket in California’ কবিতাটি প্রকাশিত হয় শিকাগোর পোয়েট্রি ফাইউন্ডেশনে। ১৯৫৫ সালে বার্কলে শহরে বসে কবিতাটি লেখেন গিন্সবার্গ।

ভাষান্তর | অরুণাভ রাহারায়

ক্যালিফোর্নিয়ার এক সুপারমার্কেটে

আজ রাতে আপনার কথা কী যে ভাবছিলাম, ওয়ালট হুইটম্যান, অথবা মাথাব্যথাকে সঙ্গী করে অলিগলি ধরে হাঁটতে হাঁটতে গাছের ফোকর দিয়ে পূর্ণ চাঁদের দিকে লাজুক তাকাচ্ছিলাম।
তারপর আমার খিদে-ক্লান্তি নিয়ে ছবিগুলো কেনার জন্য নিওন ফলের সুপারমার্কেটে গেলাম, আপনার স্বপ্ন গুনতে।
কি জামকালো আর কি ছায়াছন্ন! পুরো পরিবার বাজার করছে রাতে! কর্তায় ভরে গিয়েছে করিডোর! বউরা এভোকাডোয়, টমেটো দিয়ে খেলছে বাচ্চারা!– আর আপনি, গারসিয়া লোরকা, তরমুজ দিয়ে কী করছেন বলুন তো?

আমি আপনাকে দেখছি, ওয়ালট হুইটম্যান, নিঃসন্তান, কর্মহীন নিঃসঙ্গ বয়স্ক, ফ্রিজের মাংস হাতড়াচ্ছেন আর মুদি দোকানের ছেলেদের দেখছেন।
আমি শুনতে পাচ্ছি আপনি খুঁটিনাটি জিগ্যেস করছেন: কে শুয়োরের মাংসের চপগুলো মেরেছে? কলার দাম কত? তুমি কি আমার এঞ্জেল?
আমি ঘুরপাক খাই আর আপনাকে লক্ষ্য করি জমানো কৌটোর গাদায়, আর দোকানের গোয়েন্দারা আমার ভাবনার অনুসরণকারী।
আমরা একসঙ্গে খোলা করিডোরে গিয়ে একা একা কড়াইশুঁটি চেখে নতুন স্বাদ নিই, এছাড়া নানা সুস্বাদু শুকনো খাবারের, কিন্তু ক্যাশিয়ারের ধার ঘেঁষি না।

আমরা কোথায় চলেছি, ওয়ালট হুইটম্যান? এক ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে গেট। আজ রাতে আপনার দাড়ির ছুঁচল ডগা কোন দিকে যাবে?
(সুপারমার্কেট অভিযানের সময় আমি আপনার বই ও আমাদের স্বপ্নকে ছুঁয়েছি আর অবাস্তব ভেবেছি)
আমরা কি সারারাত নির্জন রাস্তায় হাঁটব? গাছগুলো ছায়া ঘনাচ্ছে, ঘরগুলোর আলো নিভে যাচ্ছে। আমরা দু’জনও একলা হব।
আমরা কি পাইচারি করতে করতে, হারানো আমেরিকার স্বপ্ন দেখতে দেখতে গাড়িবারান্দার নীল গাড়িগুলোকে পাশ কাটিয়ে ফিরে যাব নিঃশব্দ কটেজে?
আহা, প্রিয় গুরু, ধূসর দাড়িওয়ালা, একলা বয়স্ক সাহসী-শিক্ষক, আপনার আমেরিকা কেমন ছিল যখন সারেং আপনার খেয়া ভিরিয়েছিল, আপনি ধোঁয়াচ্ছন্ন তীরে নেমেছিলেন আর দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন তরীটি কেমন মিলিয়ে গেল লিথ নদীর কালো জলে।

Bhashanagar