Bhashanagar

নন্দিতা বাগচী

প্রকাশিত হয়েছে ২৩টি বই। ইংরেজিতে একটি ভ্রমণের বই রয়েছে। ‘দেশ’ পত্রিকায় দু’বার ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন– ‘পরিযায়ী’ এবং ‘পুনর্বাসন’। আফ্রিকায় ছিলেন ১৪ বছর। এখন কলকাতাবাসী।

যাপনের রংগুলি

মহা ধুমধাম করে হয়ে গেল বিয়েটা। সমিধের সঙ্গে অপালার। এন আর আই পাত্র বলে কথা। থাকে নিউইয়র্কে। কদরই আলাদা। পাত্রীও কম কিসে? সেও আই টি প্রফেশনাল। আই আই টি-এর প্রাক্তনী। থাকে পুণেতে।


একটা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ। যেহেতু দুজনেই প্রযুক্তিবিদ্, তাই সহজেই হয়ে গিয়েছিল বন্ধুত্বটা। দুজনের চিন্তাধারা একরকম, আগ্রহগুলোও একরকম। তাই নানা দিক বিবেচনা করে তারা স্থির করল যে বিয়েটা করা যেতেই পারে। যদিও কেরিয়ার গড়তে গিয়ে একটু দেরি হয়ে গেল, তবে এই দেরিটাকে তারা পুষিয়ে নেবে বিয়ের পরের প্রতিটি মুহূর্তকে উদযাপন করে। সমিধ করিতকর্মা ছেলে, বিয়ের আগেই স্পাউস ভিসার জন্য আবেদন জানিয়ে রাখল।


বিয়েতে পাত্র-পাত্রী দুজনেরই শর্ত ছিল কিছু। সমিধ বলল, ধুতি-পাঞ্জাবি-টোপর-পুরোহিত-যজ্ঞ চাই না। শুধু রেজিস্ট্রি বিয়ে। আর ফাইভ স্টার হোটেলে একটা পার্টি। অপালার শর্ত ছিল, কন্যাদান চলবে না। সে কারও সম্পত্তি নয়। হস্তান্তরে বিশ্বাস নেই। শাঁখা-সিঁদুর-নোয়ার বন্ধন ও চলবে না।


তবে দুপক্ষের বাবা-মায়ের কোনও শর্ত ছিলনা। তাঁদের একমাত্র ইচ্ছে ছিল বিয়েটা হোক। সমাজের সামনে, গোপনে নয়। কেননা সন্তানদের এই একক যাপন নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করছিল তাঁদের।


বিয়ের পর গ্রিসের সান্তোরিনি দ্বীপে গেল তারা মধুচন্দ্রিমা যাপনে। জোড়ে ছবি তুলল অনেক। তারপর নিউইয়র্কে ফিরে গেল সমিধ। আর ডগমগ অপালা ভাবে, ভিসাটা পেয়ে গেলেই উড়াল দেবে সে। তখন শুধুই দাম্পত্য যাপন।


কিন্তু এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু এসে তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিল। পৃথিবীর সব দরজায় তালা পড়ে গেল। এ কূলে পড়ে রইল বধূ, আর ও কূলে বর। অনির্দিষ্ট কালের জন্য। দাম্পত্য যাপন নয়, বিরহ যাপন চলছে এখন তাদের।

Bhashanagar