রঙ্গন রায়

0
75


রঙ্গন রায়

জন্ম: ১৯৯৮
জলপাইগুড়িতে বসবাস।
বাংলা সাম্মানিক স্নাতক স্তরে পাঠরত।
কাব্যগ্রন্থ: প্রাপ্তবয়স্কতার পূর্বদিক

হিরোশিমার প্রেমিক

জোয়ান বীজের গানের কাছে আমার অনেক স্মৃতি জমা পড়ে আছে।
অনেকদিন পর যখন আমাদের কথা হয় অনেক অনেক দূর থেকে
আমি টেকনোলজির কাছে মাথা নত করে ফেলি, আকন্ঠ প্রেম নিবেদন করি–
বাড়ি ফেরার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়, যখন কিছুক্ষণের জন্য সমস্ত
সময় অতিক্রম করে তুমি আমার ছোট্ট ঘরে আমার কাছে আসো;
এভাবে দিনগুলো খারাপ কাটে না আর যাই হোক–
হিরোশিমার এক প্রেমিক মাঝেমধ্যে স্বপ্নে আসে,
আমরা একসঙ্গে তার প্রেমিকার সন্ধান করি …
কোনও দুর্বোধ্য জাপানি সঙ্গীতের কাছে তাকে ঋণী রেখে ফিরে আসি
নিজের বারান্দায়, দূরে কেউ আমার নিদ্রিত শরীরের ছবি
দেখে নিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে– আমাদের কাল্পনিক বন্ধুত্ব গাঢ় হয় রোজ

হাসপাতাল

এবং রিক্সা টানা লোকটি আমাকে জীবন বোধের কথা শুনিয়ে যায়,
চাকায় স্পার্ক করে বৃত্তের মত জলের দাগ…
কপাল বেয়ে যতটা ঘাম তুমি নামিয়ে আনতে খালি পায়ের শিশুদের সঙ্গে হেঁটে;
এখনও সেসব কথা ভাল লাগে–
অসুস্থতার কথাগুলো কেন অপূর্ব বর্ণনায় তুমি পরিবেশন করো?
আমি ওসব পছন্দ করি না। কোমার ভেতরে থাকা প্রতিটি মুহূর্ত কীরকম হয়,
আমি ওসব পছন্দ করি না। তোমার লম্বা চুলের স্মৃতি এখনও একই রকম সুন্দর–
দেখো, প্রতিটি অসুস্থতার ভেতর দিয়ে তুমি ফোন কানে হেঁটে যাচ্ছ কদমতলায়
আর আমি সাইকেল চালাতে চালাতে চমকে উঠছি,
অথচ ছাতার বিষণ্ণ রং হাসপাতালের বিছানার মতো–
আমি বারবার সাইকেল থেকে নেমে হাঁটতে থাকি তোমার পাশে
ইচ্ছে মতো রাস্তাগুলোকে সাজিয়ে নিই যেন জিগস পাজল্–
তবুও হেঁটে চলা পথিকরা আমার মাথায় অসুখ ঢুকিয়ে দেয়,
আমি ওসব একদম পছন্দ করি না।

শিল্পকর্ম

ভাবি প্রতিটি ভোরের সেই দুর্দান্ত সুন্দরী ডাহুক পাখির চমকানো,
ঘাড় তুলে সন্দেহ প্রিয় পাখিদের সঙ্গে প্রতিটি প্রেমিকার সৌন্দর্যের
তুলনা চলে। সাদা টগর ফুলের মতো সূর্য এসে জানালা দিয়ে ঢোকে
ব্রহ্ম মুহূর্ত পেরিয়ে– একা আমি জেগে থাকি, নিশাচর। ভোরবেলা
আমার কাছে সদ্য ভালোবেসে ফেলা বান্ধবীটির মতো। তাই জেগে থাকাগুলো
সার্থক ও সুস্বাদু হয়– বেঁচে থাকাগুলো ভেসে থাকার চেয়েও
অনেক কিছু, যেন এইমাত্র পড়ে যাওয়া আম, কুড়োচ্ছে শৈশব

দীপাবলির দিকে

ক্রমশ একটা গোলক ধাঁধার মধ্যে
চলে যাচ্ছি…
সবকিছু কেমন ঘোটালে আক্রমণাত্মক
বাঘকে মনে হচ্ছে শিয়াল
আর হাতিকে কেমন হায় না

এরকম একটা অরণ্যের মধ্যে
শাল গাছ ভেবে জড়িয়ে ধরছি
শিমূল গাছের কাঁটা
আর হেলে সাপটাও কেমন
কিংকোবরার মতো ছোবল তুলে
দাঁড়াল
এখন এই মেঘ মাখা শরীর
এই বৃষ্টি ভেজা আকাঙ্ক্ষা
সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে ছুঁড়ে
ফেলতে গিয়ে

দেখি
একটা সুগভীর গর্তের মধ্যে
পুঁতে যাচ্ছে আমার গ্রীষ্ম বর্ষা হেমন্ত
সব চতুর্দশী অমাবষ্যা পূর্ণিমা…

ক্রমশ একটা গর্ত রশিদ খানের গানের
মতো নেমে আসছে আমার মাথায়…
আমি হাততালি দিতে দিতে এগিয়ে যাচ্ছি
দীপাবলির দিকে….

এমন রাম চাই না

এমন রাম চাই না
যারা মানুষ খুন করে
এমন রাম চাই না
যাকে লাগেনা দরকারে।

বিভেদ আর বিষাদ যেন
ঘিরেছে সারা দেশ
নদীর মতো বইছে শুধু
ঘৃণা ও বিদ্বেষ!

হিংসা থেকে হিংসা হয়
রক্ত ওঠে কেঁপে…
বৃষ্টি আসে বৃষ্টি যায়
বৃষ্টি পড়ে ঝেঁপে…

এত যে জল চোখের জল
আতঙ্ক আর চিতা
আমার দেশ চায় না
এমন হিংস্র রাম সীতা!

যা হচ্ছে

পারছি না, ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছি
হাওয়ার দিকে জলের দিকে
গাছ কিংবা নদীর দিকে…
যেতে যেতে স্পষ্ট হচ্ছে রাস্তা…

অরণ্যকে ঘিরে রেখেছে রহস্য
ক্রমশ তাদের আবিষ্কার করতে করতে
যাব

তাই এই চায়ের দোকানে এসে বসা
অথচ প্রতিদিন
আহত আর অস্বাভাবিক লাগছে সবকিছু

গোটা আরণ্যটাই উঠে এসেছে পিঠে

চিতা বাঘ আর হরিণের দৌড়াদৌড়ি
টের পাচ্ছি মুর্হূমুর্হূ

এনকাউন্টার করতে করতে ছুটে আসছে
পুলিশ…
এই যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও ফুলের বাগান নেই
কোনও শিশুর হাসি নেই
যা হচ্ছে
সব ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপে
টুইটারে আর টিকটকে!