সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

1986
4462


সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

জন্ম ১৯৬৯ কলকাতায়৷ পড়াশোনা- হিন্দু স্কুল, মৌলানা আজাদ কলেজ, গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্স অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। আইসিডব্লিউএ (ইন্টারমিডিয়েট) এবং সিএ (ইন্টারমিডিয়েট) পাশ করে কিছুদিন বিনিয়োগ পরামর্শদাতার কাজ করেন৷
২০০১ সাল থেকে পূর্ণ সময়ের সাংবাদিকতা।

দরজা খুলছে না

কথা ছিল রাত দশটায় মধ্যে স্নেহাকে ওদের বাড়িতে পৌঁছে দেবে তমোঘ্ন। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। অষ্টমীতে ঠাকুর দেখতে যেভাবে লোকজন রাস্তায় বেরিয়েছে তাতে যানজট চরমে। দেশপ্রিয় পার্ক থেকে ট্যাক্সি নিলেও সুবিধা হতো না। ওখানে গাড়ি তো একদমই এগোচ্ছে না। দুপুরে বের হয়ে ট্যাক্সি করে ঘুরলেও রাস্তার এমন অবস্থায় বেশি ঠাকুর দেখা সম্ভব হয়নি। রাস্তার জ্যাম কাটিয়ে শোভাবাজার পৌঁছতে অনেক সময় লাগবে। তার বদলে মেট্রো তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে মনে হল ওর। কিছুটা হেঁটে কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে পৌঁছলো ওরা।

ঘড়িতে তখন নটা বেজে পাঁচ। কিন্তু সেখানেও টিকিটের লম্বা লাইন। কাউন্টারে পৌঁছতেই প্রায় মিনিট কুড়ি লাগল। টিকিট কেটে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে চোখের সামনে দিয়ে একটা ট্রেন বেরিয়ে গেল। ট্রেনটা চলে গেলেও ভিড় তেমন কমেনি। এত ভিড়ে বোধহয় অনেকেই উঠতে পারেনি। এখন এভাবে স্নেহাকে নিয়ে ট্রেনে‌ ওঠা যাবে তো। বেশি দেরি হয়ে গেলে ওদের বাড়ির লোক যদি কিছু মনে করে- দুশ্চিন্তায় কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে থাকে তমোঘ্নর।‌‌ ট্রেন এলে ধাক্কাধাক্কি করে কোনরকমে উঠে পড়তে পেরেছে ওরা । তমোঘ্ন ঘড়িতে দেখল নটা বিয়াল্লিশ। কিছুটা স্বস্তি। খুব বেশি দেরি হবে না সাড়ে দশটার আগে পৌঁছে যাওয়া যাবে। এই কথা যখন ভাবছে তখন যতীন দাস পার্কে ট্রেনটা ঢুকছে। এত ভিড়ে দাঁড়ানোই যাচ্ছে না। কিন্তু এ যে এক নতুন বিপত্তি। ট্রেন থেমেছে কিন্তু ওদের সামনের দরজাটা খুলছে না। মুহূর্তে বোঝা গেল শুধু এই দরজাটাই নয় কোনও দরজাই খুলছে না। কামরায়‌ ওই ভিড়ের মধ্যে চেঁচামেচি শুরু হয়ে গিয়েছে। দরজা খুলল না, ট্রেন চলতে শুরু করেছে। অনেকেই চেঁচাচ্ছে- এখানেই তো নামার ছিল। শুধু ওই স্টেশন বলে নয় পরপর কয়েকটা স্টেশনে একই কান্ড। ট্রেন থামছে কিন্তু দরজা খুলছে না। এসপ্ল্যানেড স্টেশনে এসে ট্রেন থেমে গেল আর চলছে না। দরজাও খুলছে না। কামরার ভেতরে লোকজনের নানা মন্তব্য। তমোঘ্নর মনে হলো, ধুর এর চেয়ে ট্যাক্সিতে উঠলে ভালো ছিল। ভাবলো দেরি হচ্ছে খবরটা স্নেহাদের বাড়িতে একবার দেওয়া দরকার। কিন্তু সেটাও সম্ভব হচ্ছে না পাতালে মোবাইলের নেটওয়ার্ক নেই।

স্নেহা হল তমোঘ্নর বৌদির বোন। এই বছর কলেজ পেরিয়ে এম এ পড়তে ঢুকেছে। বছরখানেক আগে ওর দাদার বিয়ে হয়েছে। দাদা যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এখন বড় চাকরি করছে। তমোঘ্ন দাদার মতো পড়াশোনায় ভালো নয়। জুলজি নিয়ে পড়ত, কিন্তু মাস্টার ডিগ্রিতে চান্স না পাওয়ায় চাকরির পরীক্ষার দিতে থাকে। কয়েক মাস আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাকরি পেয়েছে। বৌদির বোনকে বেশ ভাল লাগে। জটিল সম্পর্ক খুব একটা কথা হয় না দুজনের। পুজোর আগে তমোঘ্ন স্নেহাকে জিজ্ঞেস করেছিল ঠাকুর দেখতে যাবে কি না। স্নেহা যেতে রাজি হল। তার চেয়েও ওর অবাক লাগলো স্নেহার বাড়ির লোক এভাবে যেতে অ্যালাউ করায়।

মিনিট পনেরো হতে চলল দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রেন। এখন এক একটা মিনিট যেন এক একটা ঘন্টা।গরমে দরদর করে ঘামছে তমোঘ্ন। আড় চোখে স্নেহার দিকে তাকালো। কেমন ভাবলেশহীন মেয়েটা। এমন অবস্থাতেও ভীষণ কুল। তমোঘ্ন একটুতেই টেনশন করে। এ মেয়ে যেন ভীষণ ঠান্ডা একেবারে ওর বিপরীত। নেহাৎ একেবারে তো বাচ্চা নয় যে অবস্থাটা আদৌ বুঝতে পারছে না । দরজা কখন খুলবে, যদি না খোলে এমন সাত পাঁচ ভেবে চার পাশের লোক ভয়ে ধৈর্য হারাচ্ছে । সেখানে এই মেয়েটা এত ঠান্ডা থাকে কি করে?

হঠাৎ সামনের দরজাটা খুলে গেল। কিছু বোঝার আগেই পিছন থেকে আসা জনস্রোতে ওরা দুজন কামরা থেকে বেরিয়ে প্লাটফর্মে নেমে এল। এতক্ষণ ‌ বন্ধ থাকা দরজা হঠাৎ খুলে যাওয়ায় ভিতরের অনেকেই আর ‌ ভিতরে থাকতে ভরসা পায়নি। কামরা থেকে বেরিয়ে মুক্তি চেয়েছে। এবার ওই ট্রেন অনেক ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। আবার ছুটতে শুরু করল। তমোঘ্ন স্নেহাকে বলল , যা হল আর মেট্রোতে উঠে কাজ নেই । স্নেহা সম্মতিসূচক একটা হাসি দিল শুধু আর কিছু বলল না।

এসপ্ল্যানেড স্টেশনটা অন্য স্টেশনের তুলনায় ফাঁকা যেহেতু এর আশেপাশে কোনও বড় পুজো নেই। ‌‌‌‌ সপ্তমী পর্যন্ত নিউমার্কেট অঞ্চলে পুজোর বাজারের ভিড় থাকে এই স্টেশনে। অষ্টমীতে সেটা আর থাকে না। তাড়াতাড়ি উপরে উঠে এল। কয়েকটা ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে। শোভাবাজার যাবে কিনা জানতে চাইলে এক ট্যাক্সিওলা বলল, যা ভাড়া উঠবে তার ডবল দিতে হবে। দরাদরি না করে সম্মতিসূচক মাথা নাড়িয়ে ট্যাক্সির দরজা খুলে উঠে বসলো দুজনে।

ট্যাক্সিতে উঠেও দুজনের তেমন কোন কথাই হয়নি। কোথাও বসে একটুু খাবে গল্প করবে ভেবে ছিল তমোঘ্ন। ভীড় যানজটে সেটাও সম্ভব হল না। আইসক্রিম আর ভেলপুরি খেয়েছে শুধু। ট্যাক্সিতে উঠে কটা বেজেছে দেখতে হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক হলো। এখন সবে সাড়ে দশটা । অবাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে মনে হল ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে নাকি। পকেট থেকে মোবাইলটা বার করে সময় দেখল – একই দেখাচ্ছে । তারমানে তো বেশি দেরি হয়নি । সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ধরে ট্যাক্সিটা ভালই যাচ্ছিল,এবার স্লো হতে হতে থেমে গেল। মহম্মদ আলী পার্কের কাছাকাছি। অন্য জানলা দিয়ে স্নেহা ঝলমলে উৎসবমুখর রাতের কলকাতাকে দেখছে। বেশিক্ষণ থামতে হয়নি ভালোই ট্রাফিক কন্ট্রোল হচ্ছে এদিকটায়। ঘড়িতে এগারোটা তখন বাজেনি। মোবাইল থেকে স্নেহার বাড়িতে ফোন করে তমোঘ্ন বলল, একটু দেরী হয়ে গেল আমরা ফিরছি।

1986 COMMENTS

  1. Hello there, just became alert to your blog through Google,
    and found that it’s truly informative. I’m going to watch out for
    brussels. I will appreciate if you continue this in future.
    Numerous people will be benefited from your writing. Cheers!

  2. Thanks for any other informative web site.
    Where else could I get that kind of information written in such a perfect means?
    I have a mission that I am simply now operating on, and I’ve been at
    the glance out for such information.

  3. hello there and thank you for your info – I have definitely picked up something new from
    right here. I did however expertise a few technical points using this web site, since I experienced to
    reload the website many times previous to I could get it to
    load correctly. I had been wondering if your web hosting
    is OK? Not that I’m complaining, but sluggish loading instances times
    will very frequently affect your placement in google and could
    damage your high-quality score if ads and marketing with Adwords.

    Well I am adding this RSS to my email and can look out for much more of your respective
    fascinating content. Make sure you update this again soon.

  4. It’s the best time to make some plans for the future and it’s time
    to be happy. I have read this post and if I could I desire to
    suggest you few interesting things or advice. Maybe you
    could write next articles referring to this article.

    I wish to read even more things about it!

  5. Hey There. I discovered your weblog the usage of msn. That is an extremely neatly written article.
    I will make sure to bookmark it and return to read extra
    of your helpful info. Thank you for the post. I’ll definitely return.