Bhashanagar

সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়

বসবাস বীরভূম জেলার আমোদপুরে। পড়াশোনা ইংরেজি সাহিত্যে নিয়ে। কবিতার বই: পোস্টকার্ড, ছায়াছবির গান কৃষিকথার আসর ইত্যাদি। সম্পাদিত পত্রিকা: ৬ ফাল্গুন

কর্মী

মানুষ তৈরিই হয় এক ধরনের শ্রম থেকে
আরেক ধরনে সেও খেটে খুঁটে খায় —
কত যে উন্নত সব খোঁজার তাগিদে
জীবনকে জড়িয়েছে কত রকমের সব ভাবে —
ভবের আসনে যত রকমের বাজারী হাওয়াই
আমাদের চুক্তি থেকে ভাবনার পালিশ প্যাকেজে
ঘুরে ফিরে তর্ক হয় — সতর্ক মানুষ সব জানে
মোহভঙ্গ হলে সেই ভেঙে দেয় — কতকিছু ছবি
আমরাই তৈরি হই — মাটি- মাঠ খেটে- খুঁটে কবি

 

শব্দের জোগান

মিথ্যা গন্ধ মাখা যত কথা বলে গেলো এই মোড়ে
সমস্যা থাকলেও আরও বিশেষ সুবিধা ছলেবলে
মন্ত্রমুগ্ধ কিছু সাধাসিধে চোখ তাকায় আকাশে
নিজেদের ঠেলে দিতে দিতে আরও পিঠের দেয়াল
ঘষে — চটা-ছাড়া যেন মকবুল ফিদার চিত্রজাল —

ছায়া- ছায়া মুখ চোখে — কোন পৃথিবীর খুচরো ভার
বহন করেছে চির রোদ বৃষ্টি ছোঁয়ার মাথায়
তাদের নামের পাশে একখানি আনকোরা বাড়ি-ঘর…
ধর্মে সওয়াবে না দাদা , তাদের কে ব্যার্থ করে দিয়ে
আমি তো এখানে থাকি — শব্দে শব্দে লাগিয়েছি বিয়ে

 

সুর তো একাই

কত মানুষের কাছে আমার যে কত কত ঋণ
জীবন ফুরিয়ে যাবে প্রায় -ফসলির এই দিন
কত – যে সন্ধ্যার আলে ঘুমিয়ে যাবেই যত মাঠ
বই থেকে যাবে তাকে — সঙ্গে সেই ছুঁয়ে থাকা পাঠ
পাঠে যে গীতবিতান আর শাম্ব, হাঁসুলিরবাঁক
কানের ভেতর দিয়ে সন্ধ্যাবেলা একা কোন শাঁখ
বাজিল কাহার উলু ধ্বনি সেই দূর থেকে দূরে
জানলার হাওয়ায় আমি থেকে যাব — ঘাস-গন্ধী সুরে…

 

উপস্থিত

ফুরিয়ে যাবার জন্যে আসিনি কোথাও
এই সব মাঠ ঘাট পুকুরের পাড়ে
কত প্রজাপতি আর ফড়িঙের ভাই
কুল – কুল গন্ধ মাখা গ্রামের গলিতে
যেখানে পল্লির গীত ভালবেসে লালন সবার
শীত শীত বাড়িটার রৌদ্রের উঠোনে…
চাকরি-বাকরি কিচ্ছু নেই। কেনা বেচা চাষি মনে —

ফুরিয়ে যাবার জন্যে আসিনি তো সুন্দর ভুবনে

 

নাগরিক

পৌষমেলার মাঠে
ক্রিকেটে রোদ কাটে
যাওয়ার পিছু পিছু
আছে অনেক কিছু
নিয়ম মেনে বই
লেখার হইচই
চারিদিকেই এখন
শান্তিই লক্ষণ—
সাক্ষ্য ওই আলো
ভালবাসাই ভাল
মানুষ যদি হই
ভাল তো বাসবই
সবার ওপর মানুষ
কবির কথায় হুস
ফিরছে কই আজ
কেমন যেন সাজ
সাজের বলিহারি
জীবন কাড়াকাড়ি
চলবে না তো আর
মাঠেই বারবার
বল পেটাই রোদ
আমাদেরই বোধ!

Bhashanagar