নাথালি কিন্টান

3836
8609


নাথালি কিন্টান | জন্ম ১৯৬৪ সালে

প্যারিসে। ১৯টি বইয়ের লেখক। ডুকাসে, ফ্রন্সোয়া পঞ্জ প্রমুখের মতো মেটাপোয়েটিক কবিদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় নাথালির লেখায়।

ভাষান্তর | রূপক বর্ধন রায়

নাথালি কিন্টানের কবিতা


আমি চোখ বন্ধ করেই জুতো বাঁধতে পারি (বা একটা অন্ধকার
ঘরে)।

জুতো আমি দিব্যি বেঁধে ফেলি অন্য কোনো ভাবনা
ছাড়াই।

তবু, ঘুম ভাঙা ইস্তক, এক টুকড়ো সুর ঝেড়ে ফেলতে না পারলে (কাজের মাঝেই সুরটা
যেন এক আভ্যন্তরীণ গুনগুনানী), আমার ছোট্টো সুরটা ছেড়ে, বা, সুরটাকে একসাথেই
গুনগুন আর
আমায় বিরক্ত করার জন্য অভিসম্পাত করা ছেড়ে জুতো বাঁধতে আমার যথেষ্ট
কষ্ট হবে।

ভাগ্যিস, জুতো বাঁধার কাজটা প্রায়ই আমায় অন্য কথা ভাবতে দেয়,
আর এভাবেই খানিকটা সময় বের করে। একাত্মেই, আমার, দুটো স্বাধীন ইঙ্গিত আর
ভাবনা আছে।

জুতো বাঁধার ভাবনা ছাড়াই জুতো বাঁধতে শেখার দিন থেকে-
যেহেতু এ ক্ষমতায় আমি খুব স্পষ্ট সুবিধা পাই- এখন
জুতো বাঁধার সময় অন্য ভাবনায় বিরতি পেতে
আমায় দারুণ পরিশ্রম করতে হবে।
হালে একাধিকবার জুতোর চলন বিশ্লেষণ, বা চামড়া, বা ফিতে নিরীক্ষণ করে
আমি খানিকটা সফল হয়েছি।


বর্তমানে, শুধুই নিজের জুতো বাঁধায় আমি প্রায়
অসমর্থ।

জুতো বাধার সময় একটাও মৌলিক ভাবনা আমার মাথায় এসেছে বলে
মনে পড়ে না।

বেশি সময়েই, পড়ে থাকা টুকিটাকি কাজের ফর্দ আওড়াই, যা কিনা
সকাল থেকেই আমার জানা ছিল, বা গতকাল, বা নেহাতই কাঁটার মত
আটকে থাকা চিন্তার কথা খুঁটিয়ে ভাবি।

ফলত, কখনও এমন হয়, আমার চলার পথে হাটতে হাটতে, আমি
চিত্তাকর্ষক কিছু আবিষ্কার করে ফেলি।

সন্দেহাতীত ভাবেই, নীচু হয়ে বেঁকে বসলেই (রক্ত চটপট মাথায় পৌছয়?
ঊরূ দিয়ে পেট চাপলে?) মেধার কাজ সহজতর
হয় না।

যাই হোক, জুতো বাঁধার সময়, সে চিত্তাকর্ষক কিছু নিয়ে ভাবনা হোক,
বা একেবারেই কিছুই “না ভাবতে” বসা,
এই অসামর্থ্যে আমি বিশেষ চিন্তিত নই।

আমার বিশ্বাস, দিনের আলোতেই শ্রেষ্ঠ সুযোগগুলো নিজেদের আবির্ভাব
ঘটায়


ভেবে দেখেছি, কেবলমাত্র জুতো বাঁধার সময়ই মেধার কাজ করতে
শিখেছি আমি। প্রতিবার জুতো বাঁধার সময়, অভিব্যাক্তিগুলো
উপচে পড়ে, আমি যথাযথ লিখে রাখি সব – লিখে ফেলা
হলে, ফিতে খুলি, আবার ফিতে বাধি, নতুন ভাবনাদে্র
উৎসাহ দিতে।
আমায় আসতে-ধীরে জুতো বাঁধা শিখে নিতে হবে।
হয়তো জুতোর বাঁধার সঙ্গে উপযুক্ত ভাবনাগুলো তৈরি হবে,
পাঁচটা ধাপের অনুসরণেই: ১. আমি ফিতে দুটো টেনে ধরি।
২. আমি একটা ফিতের মুখ অন্যটায় গলিয়ে দি। ৩. আমি প্রথম ফুলটা বেঁধে নেই। ৪. আমি দ্বিতীয় একটা বাঁধি। ৫. আমি বাধনটাকে শক্ত করি।

ফিতের ফুলদুটো প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে এলে, আমি বাধনটাকে নিশ্চিত ভাবে টেনে শক্ত করি, যাতে ওটা খুলে না যায়।


যতক্ষণ আমার গোড়ালি দুটো আমার ঘিলুর অঙ্গ, আমার সারা শরীরের,
স্নায়ুর ডগাগুলো, প্রথমটার সাথে দ্বিতীয়টাকে সরাসরি যুক্ত করে,
আমার গোড়ালি আমার ঘিলুতে, আবার উলটোটাও। আবার, আমার জুতোর গোড়ালি,
আমার পায়ের পাতার থেকে যার প্রসার, তাকে শক্তিশালী আর রক্ষা করতে করতে,
আমার ঘিলুর মধ্যেই তার বসবাস।

জুতোটা একটা ‘দ্বিতীয়’ পাদদেশ নয়, তবে – এটা আমি লক্ষ করেছি অনেক দূর
অবধি হাটার সময়, আমার একটা চেতনা কাজ করে যে আমি আমার পা দুটো
না খুলে জুতো জোড়া খুলতে পারিনা – তা আমার পায়ের পাতাই, আর সেভাবে,
আমার ঘিলুরই উদযাপন।

3836 COMMENTS