চক্ষুদান: বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাস

0
38

আলমবাজার গঙ্গার ঘাটে যেদিন কবিতা পড়েছিলাম
বারোজন শিব নিথর বসে শুনেছিলেন
অশ্বত্থের পাতায় পাতায় বেজেছিল মৃদু মুগ্ধতা
দক্ষিণেশ্বর ঘাটে যেদিন পড়ছিলাম
নৌকো এসে পছন্দের শব্দগুলো পৌঁছে দিয়েছিল মন্দির থেকে মঠে
রতন বাবুর ঘাটে কবিতাপাঠের দিন মৃণ্ময় ঠাকুর হঠাৎ বলে উঠেছিলেন —
তুই শালা কবিতা দিয়ে একটা নাভি বানা দেখি!
আহিরীটোলায় কবিতার ফাঁকে ভেসে যেতে দেখেছি
দেবীগন্ধ ছেড়ে যাওয়া চালচিত্রদের–
জগন্নাথ ঘাটে ভেসে যাওয়া বেলকুঁড়ির গাঁটরি যাদের
পারের-মায়া-কাটাতে-না-পারা খড়কাঠামোয়
ফেরানোর চেষ্টার কসুর করেনি,
যেদিন প্রিন্সেপ ঘাটে গিয়ে বসলাম
কে যেন বলল — এখানে যে? কাছেই তো নন্দিত প্রাঙ্গন !
উত্তরে বলেছিলাম — জেমস, এখন বিকেল
দেখ, অস্তসূর্যের আলোয় নদীর প্রতিটা ঢেউ কবিতা হয়ে উঠেছে
সুঠাম পিলারদের শুভ্রতার ঘেরাটোপে বসে
একক উপাসনার লোভে এখানে এসেছি…
পাঠ শেষের অপেক্ষায় দীর্ঘ ছায়া ফেলে অধীর হয়ে থাক
নিবিড় কোজাগরী।