প্রিয় মিথ্যেগুলো: উজান উপাধ্যায়

0
257

বাবা বলেছিল- পৃথিবী ঠাকুমার মতো সুন্দরী। ছোটকাকু বলেছিল- আমাদের গ্রামে কোনওদিন যুদ্ধ হবে না।

দুজনেই মিথ্যে বলেছিল। আমাকে বাঁচাতে?

বুড়ি দিদিমণি বলেছিলেন- অঙ্ক শেখ। সব অঙ্ক মিলবেই। জিতেন স্যর বলেছিলেন- রবীন্দ্রনাথ পড়। শান্তি পাবিই।

দুজনেই মিথ্যে বলেছিলেন। আমাকে বাঁচাতে?

যেদিন প্রথম বুঝতে পারলাম। চারজনকে আটকে ফেললাম। একটা গুহায়। ভীষণ রাগ তখন। বললাম-

কেন মিথ্যে বলেছো আমাকে? তোমরা সবাই।

একসাথে চারজন বলে উঠল-
আজকের এই দিনটার জন্য। জানতাম তুই আমাদের এইভাবে ভয়ংকর গুহায় আটকে দিবি। আর তখনই আমরা সত্যিটা বলতে পারব।

কিচ্ছু সুন্দর নয়। মহাজীবনের। যদি না অন্ধ হোস। ভালবাসায়- আর তারপর যা দেখবি যা ভাববি সেটাই কবিতা। মৃত্যুর মতো।

দেখবি সবটুকু অপূর্ব। অমৃত। ধ্বংসের মতো।

দেখলাম। গুহায় গুটিগুটি পায়ে ঢুকছে এক রাক্ষসী। তাকে দেখতেই মনে হলো-

আমার ঠাকুমার চেয়েও সুন্দরী। আর বাবার চেয়েও মিথ্যেবাদী।

বুড়ি দিদিমণি বললেন- দেখ ওকে। যেকোনো নষ্টকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবি।

যেকোনো নিঃস্বকে অনন্ত অফুরান মনে হবে।

ভালবাসতেবাসতে মরে যাবি কিন্তু একবারো মনে হবে না ঠিক করছিস। মনে হবে –

ভুল করতে এত ভালো লাগে!

২১ শে মানেই ফেব্রুয়ারি নয়, মার্চ ও হয়।