Home বাংলা কবিতা

বাংলা কবিতা

বইঘরের উদ্বোধনে, ভোরে ঠান্ডায় হাড়হিম, সকলের নিঃশ্বাসে কুয়াশা বাড়ছে, রাস্তায় বইঘরের উদ্বোধনে স্বরচিত জার্মান কবিতা পড়ছেন গিসেলা উইন্টারলিং। এ হেন হিমাঙ্কের মাঝেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভিড়, সাংবাদিকরা সুদৃশ্য খাতায় তুলে রাখছেন দৃঢ় পঙক্তিগুলি। রাউএনতালার স্ট্রিট বেয়ে বয়ে যাওয়া গাড়িগুলি থামিয়ে নেমে আসছেন, ছুটির সকালে, কিছু লোকজন। প্রতিস্পর্ধী ভিড়টা ক্রমেই বেড়ে উঠছে। কবিতা মধ্যেই করিম ধরলেন...
ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে শুরু হয় তার গতিপথ নিয়ে চর্চা গভীর সমুদ্রে মৎস্যজীবীরা ডিঙি-নৌকার অভিমুখ ঘুরিয়ে নেয় উপকূলের দিকে অন্ধকারে ফুঁসে ওঠা সমুদ্রের দিকে চেয়ে রাত জেগে বসে থাকে তাদের গৃহিণীরা আর বিড়বিড় করে জপতে থাকে দুর্গা নাম ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দায়িত্বশীল প্রশাসন মাইকে নির্দেশ দেন উপকূল খালি করার ঝড়ের পূর্বাভাসে নিরীহ পাখিরা অসহায় নাগরিকের মতো পালকের নীচে ঠোঁট গুঁজে দিয়ে অপেক্ষা করে সর্বনাশের তারপর ঝড় থামে যখন সকলে মাথা...
বৃষ্টি ও চাঁদের মাঝে মোমবাতি জ্বেলে মধ্য জুলাই আমার বুকে শস্যবীজ রেখে গেছে কবে! এমনই অন্ধকারে জলের রং চিনিয়েছিল অস্ফুট ভ্রূণাধার। সোঁদা মাটিতে স্নেহের গন্ধ শুঁকে পৌঁছে গেছি কত অচিন পুকুর— সেখানে সেই হাতের চপলতা নেই, নেই কোনও শ্বাসের প্রলেপ হে জুলাইয়ের জন্মবার আমাকে নিয়ে চলো রোমকূপের বনে! আদিম ঘাস যেখানে লোকাতীত আলোর অপেক্ষায় গর্ভের কলুষহীন মাঠও আরেকবার নিশ্চুপ হতে চায়, হাত ধরে বলে— ‘তৃষ্ণার্ত পারাপার...
ওবায়েদ আকাশ গত শতকের নব্বইয়ের দশকের কবি। জন্ম ১৯৭৩ সালে, বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর গ্রামে। বসবাস ঢাকায়। একাডেমিক পড়াশোনা : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। পেশা : গণমাধ্যমে চাকরি। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা: কবিতা, অনুবাদ, গল্প, প্রবন্ধ, সম্পাদনা মিলিয়ে ৪০টি। এর মধ্যে মৌলিক কাব্যগ্রন্থ ২০টি। সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন শালুক (১৯৯৯-২০২০)। রোগাপটকা কুসুম খ্যাতির চূড়ান্ত...
দেবীপক্ষ, মায়ের বোধন--- তারপর, সবাই বলল দেবী বিসর্জন--- এ তো বড় পুণ্যের! আসলে, লোকনিন্দা-সামাজিকতা হল মুখ্য- গল্পের আড়ালে রয়েছে সাজানো গল্প--- সর্বংসহা দেবী সাজানোর! পান থেকে চুন খসলো বাজলো উলু ধ্বনি, শাখ আর বিসর্জনের বাদ্যি মুহূর্ত অপেক্ষা, সব শান্ত সব শব্দ পরিণত হল শবে নীরব দর্শক দেখল--- আহা! আহা! বলে দেবীর পুণ্য বিসর্জনে দিল হাত তালি তারপর ফিরে গেল যে যার...
উত্তম চৌধুরীসত্তর দশকের শেষে কবিতা লেখার শুরুপ্রকাশিত বই ১৪ টিসম্পাদিত পত্রিকা: দৃশ্যমুখপেশা: শিক্ষকতাবসবাস আলিপুরদুয়ারে প্রতিভার মুদ্রাগুলোবুকের পাঁজর থেকে শীতল বরফ সরিয়ে দিই,উষ্ণতা জমা থাক হৃদয়ের গভীর দেরাজে।কাজে কি অকাজে খুব খরচ করেছসকালের আলোয় বেড়ে ওঠা প্রতিভার মুদ্রাগুলো।চালচুলোহীন মাঠকে ডেকে বলছ, চলো।অথচ তুমি ও সে পাথর আর নদীর গাঢ় সমার্থক।এখন চোখ...
অমিতকুমার বিশ্বাসগানসমস্তদিনের শেষে গান এলেরক্ত ছলকে ওঠে ঢেউএক-একটা ঢেউ ক্রমশ ভাসিয়ে নেয়... হলুদ বিকেল...পোড়া বাঁশি....আর আমার কিশোরী মায়ের স্বরলিপির ছেঁড়া খাতাদিগন্ত পেরিয়ে যখন গান আসেএকটু- একটু ভিজতে থাকি আমিভিজে যায় সংকীর্ণ সাঁকো,মৃতগাছঈশ্বরীর প্রতিশুনছো?পালক ঝরছেধোঁয়া-ওঠা তপ্ত সাদাভাতের মতোশুশ্রুষাময় পালক ঝরে পড়ছে হেমন্তভোরে।কেউ কি অাসবে?কালো চিতার মতো রোমশ অন্ধকার ক্রমশ গিলে...
সেই কবেকার সোনাঝুরি জঙ্গল থেকে উঠে এসেছিল শব্দটা। তারপর কত মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল পেরিয়ে মৃত্যুগন্ধ শরীরে মেখে, কমলালেবু রঙের দুপুর পেরিয়ে, থ্রি জি কিংবা ফোর জির চক্করে পড়ে ব্ল্যাকহোলের মতো পরিণত হচ্ছিল নির্মম পরিহাসে - শুধু চিলেকোঠায় পৌঁছে যখন চোখে পড়ে গেল ধুলোময় খাট, আমার বাল্যকালের পড়ার টেবিল, ভাঙা রেডিওটাকে দেখে যখন...
১ তোমাকে লিখবো ভাবি তুমি থেকে সম্বৎসর খসে গেলে নাম না জানা আশীর্বাদ দাউদাউ জ্বলেছিল আমাদের মাটি ও দিনাঙ্কে তারপর একটি একাকী মন্ত্র ঝরে পড়ল বিবাহের গায়ে তুমি মৃদুতর হলে আমি যৎসামান্য হলাম তোমার অপলকের ভেতর পলক পলক জল তুললাম তোমার ভেতর চাঁদ স্বচ্ছ হলে আমি বাহারী নাও নিয়ে সাতটি জন্মের অনুপম, ঘরবাদলার কথাকন্না, লুকোচুরির বৃষ্টি দেখে এলাম তুমি স্বাদ ছুঁয়ে দেখো, গ্রহণের সূত্র...
পিকাসোর ছবি একই পথে সব গল্পেরই শেষ বস্তুত একটাই গল্প মাঠের মাঝে তৈরি হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন। শুধুমাত্র মনে হচ্ছে বদলে যাচ্ছে ; মাঠের চারিদিকে বিভিন্ন উচ্চতার ঘিরে আছে যে বাড়িগুলো সেগুলোর বিভিন্ন ছাদ থেকে কেউ দেখছে কান কেউবা একটা চোখ কেউবা নাকের পাশ অথবা মাথার পেছন তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখের ওপর চোখ ঢাকা পড়ে যাওয়া কান ছাদের গুঞ্জন শোনার জন্য উঠে আসছে আর একটি...
একটা লোক বাসের পাদানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়ল একদিন ঘুম যখন ভাঙল,দেখল,এ পৃথিবীতে আর বাস চলে না কোথাও কোনও ট্যাক্সিস্ট্যান্ডও নেই চলে শুধু হাওয়া আর পাটাতনে রাখা সময়... বাসের জানলাগুলো খুলে নিয়েছে কেউ,বসার সিটে তা দিচ্ছে পায়রা এক গায়ক তারই মধ্যে গান গাইছে ইলেকট্রিক গিটারে স্টেশানের ভেতরে,বাইরে প্রেমিকার মতো মেয়েরা উড়িয়ে দিচ্ছে হাহাকার… একটা লোক...
এই দেখ মেয়ে, সামনে দেখ তাকিয়ে -- কি হ'লো, মিললো কথা ? এবার বল তবে বুকে হাত রেখে সত্যি কথা কবিতার সব কথা মিলে গেলো তো ! প্রথমটায় শুধুই করেছিলি অবিশ্বাস আর আমি, বলেছিলাম তো -- জাদু আছে জাদু, দেখিয়ে ছাড়বো দেখ তাকিয়ে, দরজা খুলে গেলো তো -- নে মেয়ে উঁকি দিয়ে দেখ ভিতরে কী সুন্দর ঘরটা দেখ, কতো...
সঞ্চারী ভৌমিকপ্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের ছাত্রী।বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালিখি।একমাত্র বই ‘আলপনা বাড়ি‘।১.খুব বৃষ্টি  হলে  মাটির  রঙ বদলে  যায়,বৃষ্টিতে  ভেজা  নরমমাটি কে  দেখলে  আমার  মায়ের  কথা  মনে পরে;সোঁদা গন্ধের  গায়ে  লেগে  থাকে  সদ্যমাঠ থেকে  ফিরে  আসা মায়ের  ক্লান্তিজল।বৃষ্টিতে  মাটির  সর্বশরীর  ভেজে, আগুনআঁচ  আমার  মায়ের  শরীর  ভেজায়।তখন...
হাবীবুল্লাহ সিরাজী | জন্ম ১৯৪৮ বাংলা ভাষার অগ্রগণ্য কবি। বসবাস ঢাকায়। তাঁর একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি বইয়ের নাম-- 'কত কাছে জলছত্র', 'কত দূর চেরাপুঞ্জি', 'কাদামাখা পা', 'ভুলের কোনও শুদ্ধ বানান নেই', 'শূন্য, পূর্বে না উত্তরে', 'আমার জ্যামিতি' ইত্যাদি। ২০১৬ সালে সম্মানিত হয়েছেন একুশে পদকে। বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। পরীক্ষা প্রার্থনীয় শাদা...
ফিরে আসা মানে পুরোপুরি আসা নয় একবার চলে যাওয়া মানে যেতে থাকা চোখে রাখা থাকে অশ্রুর সঞ্চয় জেনো, কিছু কিছু নদীদেরও আছে শাখা কেন যে অতল... কেন যে শ্রাবণমাস... এত স্রোত, এত সন্দেহ, চোরাবালি ভালোবাসা মানে হৃদয়ের সন্ত্রাস অক্ষরে ব্যথা অনুবাদ করে গালিব খুন হয়ে যাওয়া ছায়াটার পাশে তবু আলগোছে পড়ে থাকে শরীরের ঋণ প্রেমিকের পায়ে মাথা নত কোরো,...
এমন কোনও বৃষ্টি নেই এমন কোনও দৃষ্টি নেই মেঘলা নেই যাতে এমন কোনও ক্রান্তি নেই এমন কোনও ভ্রান্তি নেই ছায়ার চেয়ে গাঢ় এমন কোনও আগল নেই এমন কোনও বাকল নেই বনস্পতি মায়া এমন কোনও প্রান্ত নেই এমন কোনও শ্রান্ত নেই বিরহ যার আয়ু এমন কোনও শব্দ নেই কাল কিংবা অব্দ নেই নিরপেক্ষ, সাদা এমন কোনও পাত্র নেই এমন দিবা রাত্র নেই জলের দরে বুক এমন কোনও ভূমিও...
পৌষালী চক্রবর্তী পেশায় রাজ্য সরকারের আমলা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে গবেষক। নানা পত্রিকায় লিখে থাকেন। কবিতার বই: লিলিথ জন্মের আগে। মেলা উপমাসঙ্কুল পথ ধরে হাঁটতে বেরিয়েছি সরলবর্গীয় বনভূমির দেশ তোমাদের কাছে আশ্রয় দিও কোনো এক সরীসৃপ বিকেল ঘেঁষে। ট্রেন হকারের বিশ্রামের অবকাশে আমি হাটে বাজারে মেলা বসাই ঘুরচরকি হাতে ছেলে মেয়ে আসে গলাগলি থেকে আচম্বিতে তাদের বিয়েও দিয়ে...
সবর্ণা চট্টোপাধ্যায় | জন্ম ১৯৮৪ বসবাস বারাসাতে। কবিতার বই: চারদেওয়ালি চুপকথারা। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। স্টেশন হাওয়া আসে বিছানার চাদর উড়ে যায়। শোয়ার আগে এখনও পরিষ্কার পাতি। ঝেড়ে ফেলি ছড়ানো বইয়ের গন্ধ, দুপুরের ঘাম, তোমাকে ছুঁয়ে থাকা সমস্ত জল। পুরোনো পাড়ায় আজকাল যাওয়া হয় না আর। কাঁচা মুদির দোকান, পঞ্চাশ পয়সার মৌরি লজেন্স। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সদ্য ওঠা...
হঠাৎ কোনো তপ্ত গ্রীষ্মদিন, বৃষ্টি এলো শহরতলীর পাড়ায় দু-চোখ জুড়ে অতীত কিছু ঋণ— ঝাপসা স্মৃতি প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায় বিষাদ বুঝি জলের ছদ্মবেশে আঁধার হয়ে রাখছে লিখে নাম হঠাৎ যদি সন্ধ্যা এলো ভেসে নিম্নচাপের মেঘে ছুটির খাম দু-খানি ট্রেন ছুটবে দুইটি দিকে বাজলো বাঁশি, বিসর্জনের ডাক, কক্ষপথে চিহ্নটুকু রেখে একলা মেয়ে একলা পড়ে থাক...
ভারভারা রাও | জন্ম ১৯৪০ সালের ৩ নভেম্বর ভারভারা রাও একজন সমাজকর্মী, প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক, সাহিত্য সমালোচক এবং সুবক্তা। ১৯৪০ সালের ৩ নভেম্বর তেলেঙ্গানায় তাঁর জন্ম। তাঁকে তেলেগু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমালোচক বলে মনে করা হয়। বিগত প্রায় ষাট বছর ধরে তিনি কবিতা লিখে চলেছেন। এখানে অনুদিত ‘মেধা’ কবিতাটি তাঁর অন্যতম...