Home বাংলা কবিতা

বাংলা কবিতা

নাবিক জলের গাথা ১ প্রাচীন নাবিক তুমি, তারও চেয়ে প্রাচীন এই যান সময় সায়াহ্ন কাল।একটি রমণী বর্শা চিরে দিল মাছের ওই পুংকেশর ঝাঁক। ২ সেই পাপ আদিপাপ লাগলো এসে জলের সংসারে জলের বিরুদ্ধভাব চাকার ঐ জটিল ঘূর্ণনে। ৩ মাঝখানে টুকরো ডেক মেঘমনা নাবিকের ঘর মাস্তুলের চেয়েও দীর্ঘ তার ভাঙা ছায়ার বহর। ৪ অ্যালবাট্রস উড়া দিলে তুমি বলো, হেমিংওয়ে আমি কি পাব না জলে পূণ্য কড়িকাঠ! কোর্ট চত্বর সাদা...
আবির্ভাব ভট্টাচার্য জন্ম ১৯৯৩, বর্ধমান। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে সেখানেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। কবিতার বই রয়েছে দু'টি। টুকরো টুকরো স্যানিটোরিয়াম ১ রক্তপাত হয় এখানে বিকেলবেলায় পশ্চিম আকাশে দেয়ালের গায়ে গায়ে বিয়োগের দাগ আত্মজৈবনিক ক্ষয় জেগে থাকে। ২ আমার পাশের বিছানায় যে ছেলেটি আছে প্রায় দেখি মধ্যরাতে জেগে বসে থাকে! আমাকে সে গোপনে বলেছে তার মন, ইতিহাসে নয় শিক্ষিকার ভ্রমর কাজলে!... ৩ ইস্কুল বিকেল মনে...
সোনালী ঘোষ জন্ম: ১৯৮৬শূন্য দশক থেকে লেখালিখি।থাকেন কল্যাণীতে।বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে।স্রোত১বৃষ্টি থামার পর,জান্তব ফোঁটাকে জিগ্যেস করেছিলাম,'এত নিখুঁত তালিমপেলি কোথা থেকে?'২প্রচ্ছদ ছেঁড়ার পর,মনের গভীরেযে কষ গড়ায়,সে তো চন্দন ঘষা জল!৩বিদ্রোহ যার কাছে গিয়েনীরব হয়ে আসে,তাকে আমি বলিনিষিদ্ধ প্রেতপুরী।৪কত মুহূর্ত যায় ভেঙেগুঁড়িয়ে যায় হিরোসিমা,অবাধে তৈরি সরণীর কাছেবেফিকর দিল রাখব না...৫দফায় দফায়...
ভ্রমণ তা হলে এমনই সন্ধ্যা লেখা ছিল বনের ভেতর ছায়া নেমে আসে জলের মন্দির থেকে সে ছায়ার হাত ধরে আমার ভ্রমণ শুরু হয়, এক জরায়ুর থেকে আরেক জরায়ু মাঝখানে পাতা কাঁপে, ঝরে পড়ে দু-এক ফোঁটা জলের শরীর সেক্সটনের মেয়ে ভাঙাচোরা স্তনের ভেতর থেকে ভেসে আসছে এপ্রিলের আলো একটি ক্যাথিড্রাল, পাখির ঠোঁটের মতো চূড়া রোদ্দুর পড়েছে। তার ছায়ায়...
এই সেই গলি এইখানে বাঁয়ে বেঁকে কী সরু কী সরু,দুদিকে দোকান গাড়ি ঢোকে না, হাতে হাতে ধরে… তারপর সেই মুখ, সাধ না মেটা দেখা অঙ্গে বস্ত্র নেই জলস্নান জলস্নান কে? কে? কে? কে খায়নি নুন? মাসি পিসি কাকা জ্যাঠা আত্মীয়কুটুম শুধু মেয়ে বলে সে— মুখে দেবে না আগুন?
তৃতীয় রঙের মতো শিশু বেড়ালেরা ঢুকে পড়েছিল বলে তুমিও ছায়ার উল্টো দিকে বসে প্রত্যাশিত জমির দখলে নেমে পড়তে গিয়ে দেখো গোল গোল থাবা ঢুকে গেল কোলে কাঁখে এবং বেরালে নিয়ে সেই সব শিকারীর স্তনযন্ত্রণাকে যাতনা মানে তো মুখে অচেনা স্বাদের আনাগোনা চলে আর শ্রাবণ মাসের মধ্যে রেখে আসা ছোট ছোট পাগল পাহাড় পাহাড়ের ফুল দোলে,...
ব্যর্থতা বড়র দায়, শিশু কি কখনও ব্যর্থ হয় হামাগুড়ি দিতে দিতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা সেও এক এভারেস্ট জয় আমি সেই জয়ের পতাকা কুরুক্ষেত্রে নিয়ে গেলে মাটি থেকে উঠে আসে চাকা যুবতী মায়ের স্তনে কানীন পুত্রের জিভ বলে ওঠে,শেষ নয়,যুদ্ধ শেষ নয়।
“in the silence behind what can be heard lies the answers we have been saerching for so long’’ Andreas fransson একটা পোকার ভোঁ ভোঁ আওয়াজ অনেকক্ষণ মাথার মধ্যে বাজছিল। খুব সহজেই ওকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতে পারতাম আমি।হয়ত,সেটাই ও চেয়েছিল। গরমের দিন সন্ধেবেলায় আশ্চর্য হাওয়াটার জন্য অথবা অন্য কোনও কারণে,জানি...
শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তীজন্ম: ১৯৮০, কলকাতাপ্রথম কাব্যগ্রন্থ: আকাশপালকঅন্যান্য কবিতার বই: শিকারতত্ত্ব, আড়বাঁশির ডাক, জনিসোকোর ব্রহ্মবিহার, কানাইনাটশালাকবিতাথেরাপি নিয়ে গবেষণামূলক বই: ষষ্ঠাংশবৃত্তি সম্পাদিত পত্রিকা: শামিয়ানাচিড়িয়াতাপুভোর ভোর বেরিয়ে পড়েছি। লম্বা সফরচেক পয়েন্ট পার করে গেলেই দেখা যাবেসপসপে জাড়োয়া শরীরস্তন দেখা যাবে যোনি দেখা যাবেতেল সপসপে খোলামেলা মৈথুন দেখা যাবেওদের দেখতে দেখতে আমরা নিজেদেরদেবরাজ ভাবব পয়গম্বর...
বেদনা, পরমসত্য তীরে এসে ডুবে যাবে তরী বেদনা, পরমসত্য এর উপর আর কথা নেই বেদনা, পরমসত্য পথে চলবে, সে তোমার সাথে চলবে না অথচ আরোগ্য সে-ই, দূরে বসে একমাত্র সে-ই পরিত্রাণ বেদনা তাকেই পালটা দোষ দাও, যত ভুল একমাত্র তার সেও তো তোমায় চেনে, সেও জানে পাতা উলটে পরে চলে যাওয়া বেদনা পরমসত্য, এর কোনও শেষ নেই বলতে...
দেশভাগ সম্পত্তিটুকু ভাগ হল একদিকে হাঁড়িপাতিল, রঙিন মাছের আঁশটে গড়িয়ে পড়া জল নুনের ভাড় হেঁসেলের ধোঁয়া, অন্যদিকে স্মৃতিজ্বলা মুখ ও হৃদয়ের বিভূতি শ্যামবর্ণ ধূসর চৌকাঠ আর নরোম জ্যোৎস্না। কিছু আত্মকেন্দ্রিক মানুষ অনতিক্রম্য মাতাল হাওয়া বন্ধক রাখে চণ্ডাল বিচারকের দুই হাতে। এইভাবে চুরমার ভস্মছাই হয় পুতুল সংসার, নির্মাণের হাতিয়ার ভেঙে পড়ে আর্তচিৎকারে; সম্পত্তিটুকু তখনো দূরে দাঁড়িয়ে গোপন মুদ্রায় জাগে এক অনভিপ্রেত সকাল! কান্নার দাগ...
মুজিব ইরম জন্ম বাংলাদেশে। পড়াশোনা করেছেন সিলেট, ঢাকা ও যুক্তরাজ্যে। বর্তমান বসবাস ব্রিটেনে। তাঁর ১ম কবিতার বই মুজিব ইরম ভনে শোনে কাব্যবান প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে, বাংলা একাডেমি থেকে। কয়েকটি কবিতাগ্রন্থের নাম: ইরমকথা, লালবই, শ্রীহট্টকীর্তন, পাঠ্যবই ইত্যাদি। কবিতা ছাড়াও গল্প, উপন্যাস এবং শিশু কিশোর সাহিত্য বিষয়ে তাঁর একাধিক বই আছে।...
সতীন্দ্র অধিকারীজন্ম ১৯৯২ সালে।বাঁকুড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম নিত্যানন্দপুরে বেড়ে ওঠা এবং বসবাস।পেশা: টিউশন! শৈশব থেকে লেখালেখির শুরু।বিষাদভাষাহীন নিঃস্তব্ধ রাত্রির মতন কারো চেয়ে চেয়েথাকতে ভালো লাগে সাতাশটা বছর!সারা রাত জেগে কি করে মানুষেরা শাদা পাতায়মহাজাগতিক শূন্যতা আর শূন্যতার ভিতরলিখে রাখা সেই সব হাহাকারগুলি।একদিন রিখটার স্কেলও চৌচির হয়ে ছড়িয়ে পড়বেমেঝের ওপর।...
এখানে অন্যমনস্কতা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে আমার ভিতর এক ছোপ অন্ধকার এসে পড়েছে মেঝেতে। আরও অন্য ঋতু অন্যতর বেলা অব্দি বিছিয়ে আছে অবসান। অবসানের মধ্যে দানীভর্তি ফুল। পাতাগুলি আমায় বললো, যে কাতরতা সাদার ভিতর থেকে সুগন্ধ তুলে আনে – তা তোমার গো সবটাই তোমার আমার বুকের মধ্যে ঢুলে আসে প্রকাণ্ড এক চোখ,...
ভারভারা রাও | জন্ম ১৯৪০ সালের ৩ নভেম্বর ভারভারা রাও একজন সমাজকর্মী, প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক, সাহিত্য সমালোচক এবং সুবক্তা। ১৯৪০ সালের ৩ নভেম্বর তেলেঙ্গানায় তাঁর জন্ম। তাঁকে তেলেগু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমালোচক বলে মনে করা হয়। বিগত প্রায় ষাট বছর ধরে তিনি কবিতা লিখে চলেছেন। এখানে অনুদিত ‘মেধা’ কবিতাটি তাঁর অন্যতম...
আমেরিকা সাত, ইউরোপ পাঁচ, রাশিয়া সাকুল্যে চার দিন জীবনের বাকি দিনগুলো আমি চেয়েছিলাম তোমাকে দিতে ফোড়নের মতো দপ করে জ্বলে উঠে তুমি, কয় মন অসন্তোষ ঢেলে দিলে... অথচ আমাকে ধরে রাখতে চেয়েছে, সমুদ্দুর সামুদ্রিক ফ্যানা, সে-ই আরব্যরজনী, এক একলা আকাশ চীনের প্রাচীর আজও দেখো রয়েছে একই কত পর্যটক প্রতিদিন আসে যায়! ব্যবধান গড়েছে সময় শীতের শহরে, বস্তা, আরাম যখন রূপকথা...
অর্কেস্ট্রা শোনার পরে বেঁচে ওঠে, এই গ্রামে নাকি রয়ে গেছে এমন যুদ্ধজাহাজ কারখানা বৃষ্টি শেষে শুনশান চারদিক, রাস্তা জুড়ে হেঁটে চলেছেন ভ্যান গঘ আর বিটোফেন চোখ থেকে স্বপ্ন খসে পড়ে, আলোহীন সম্পর্কের কথা ভাবি মাথা নিচু জানুয়ারি সরে গিয়ে দাঁত বসাচ্ছে চরম ফেব্রুয়ারি নাবিক ফিরেছে ঘরে সুতোকাটা ডিমের উল্লাসে, প্রতিটি বন্দরে জমানো হতাশা...
রাজদীপ পুরীজন্ম  ১১ই  অক্টোবর, ১৯৮৫জন্ম  উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাকপুর শহরে।  শৈশবে কিছুদিন কাটে মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমারে।  সপ্তম শ্রেনীতে পড়ার সময় ‘শুকতারা’ পত্রিকায় প্রথম কবিতা প্রকাশ। পরবর্তী সময়ে ‘উনিশ কুড়ি’, ‘সানন্দা’, ‘তথ্যকেন্দ্র’, ‘কবিসম্মেলন’, ‘মধ্যবর্তী’, ‘কৃত্তিবাস’ সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও লিটিল ম্যাগাজিনে লেখালিখি। কবিতার বই চারটি— ‘হলুদ প্রেমের কবিতা’, ‘শুরুয়াৎ’,...
আকাশ সংযত হয়ে নেমে এলো ছাদে অপার মহিমা দেখি ছড়িয়ে রয়েছে মহিমা শব্দের যত আলো তাও এসে এখানে ছড়ালো... শুধু ভাবি— জীবন কি ভরা শুধু বিষে সামনের ভেজা কার্নিশে কনুই নামিয়ে রেখে দূরান্তরে তাকিয়ে থাকার পর ভাবি এখানে বাবার পাশে মা-ও যেন আছে আকাশ রয়েছে তার কাছে৷
জীবনের গান   প্রত্যাখ্যানের মধ্যে সমস্ত আশ্চর্য রাস্তাগুলো লুকিয়ে আছে পৃথিবীর বুকে জর্জ বিশ্বাসের গানকে জড়িয়ে ধরে দীর্ঘ করছে আয়ু রেখা ছেঁড়াতার বেঁধে ফেলতেও চান কেউ কেউ কিন্তু, ওই যে মন আর মস্তিষ্কের 'ম' আলাদা তাই, যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসো তাকে বলো না কখনও, 'ভালোবাসি!'     অভিসম্পাত শব্দের সঙ্গে বহুকাল সম্পর্ক না থাকলে দূরত্ব বাড়ে ভেতর ভেতর ভয় তাড়া করে যদি কোনও...